Loading...

EXCLUSIVE: 'বন্ধুরা মিলে লিস্ট বানাতাম যে এই ঠাকুরগুলো দেখতেই হবে, সেই হোমওয়ার্কগুলো মিস করি', পুজো আসতেই 'জিয়া নস্টাল' দর্শনার

দুর্গাপুজো মানেই যেন দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততা থেকে এক মুঠো সময় চুরি করে নেওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, আড্ডা দেওয়া, পরিবারের সঙ্গে হইহই আর প্রচুর খাওয়া দাওয়া। বাঙালির সেই শ্রেষ্ঠ উৎসব দরজায় কড়া নাড়ছে। এবারের পুজোয় কী কী প্ল্যান, কেনাকাটা কতদূর আজকাল ডট ইনকে জানালেন দর্শনা বণিক।

এ বছরের পুজোর প্ল্যানিং কী জানতে চাইলে দর্শনা বলেন, "পুজোর সময় প্রচুর ইভেন্ট থাকে। কাজের চাপ থাকে। তার মধ্যেই পরিবারের সঙ্গেও বেরোনো হয়। স্ট্রিট ফুড খাওয়া হয়। অঞ্জলি দেওয়া, ভোগ খাওয়া, নতুন জামাকাপড় পরা, নতুন নতুন শাড়ি কেনা হয়, সেগুলো এবারও চলতে থাকবে। এগুলোই পুজোয় প্ল্যান, কাজ করা আর তার সঙ্গে পরিবারের সঙ্গে অনেক সময় কাটানো।"

ADVERTISEMENT

নতুন শাড়ি, নতুন জামায় সেজে ওঠে পুজো। কেনাকাটা কতদূর হল সেগুলোর? দর্শনা জানালেন তাঁর পুজোর শপিং হয়ে গিয়েছে, আবার একটু বাকিও রয়েছে। সেটা কীভাবে? অভিনেত্রীর কথায়, "আমার শপিং ডান। পরিবারের সবার জন্য এখন শপিং চলছে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে কেনাকাটা শেষ করতেই হবে। প্রচুর শাড়ি এবং সাবেকি পোশাক কিনেছি। পুজোর আগে কেনাকাটা তো হয়ই, তাছাড়া শেষ এক, দুই মাস ধরে যা কিনি সেগুলোও রেখে দিই। মূলত সাবেকি পোশাক হলে রেখে দিই যে পুজোয় পরব। ওয়েস্টার্ন বা ক্যাজুয়াল হলে পরে নিই।"

আরও পড়ুন

দর্শনা বণিক শাড়ি পরতে ভীষণ ভালবাসেন। ছবির প্রচার হোক বা পুজো, তাঁকে শাড়িতেই মূলত দেখা যায়। আর এই পছন্দের পোশাক কেনার সেরা ঠিকানা কী তাঁর কাছে? অভিনেত্রী বললেন, "অথেনটিক শাড়ি কিনতে ভালবাসি। যাঁরা সিল্ক নিয়ে কাজ করেন, তাঁদের থেকে কিনি বা সোজাসুজি তাঁতিদের থেকে কিনি। জামদানি হলে বাংলাদেশি তাঁতিদের থেকে কিনি। এখানে কিছু বুটিক আছে যাঁরা অথেনটিক শাড়ি, কালেকশন রাখেন, তাঁদের থেকেও কিনি।"

'বেটার হাফ' সৌরভ দাসের জন্য কী উপহার কেনা হল, কোনও চমক প্ল্যান করেছেন কিনা জানতে চাইলে দর্শনা বলেন, "মাঝে দুবাই গিয়েছিলাম, তখনই ওখান থেকে সৌরভের জন্য জিনিস এনেছি। এখনও ওর জন্য এটা, ওটা কিনছি। ওর জন্য তো সারা বছরকিনতেই থাকি। সৌরভের অত ক্রেজ নেই, যে পুজোয় কী পরবে না পরবে। ও আগেই পরে ফেলে। আমিই জোর করে ২-৩ রেখে দিই, যে না এগুলো পুজোয় পরতে হবে।"

আগামী শুক্রবার, ঠিক পুজোর মুখেই মুক্তি পাচ্ছে তাঁর নতুন ছবি, 'কেয়ার অফ জার্নি'। কতটা উত্তেজিত সেটা নিয়ে? "মুভি রিলিজ নিয়ে খুবই উত্তেজিত। ২৫ সেপ্টেম্বরের বদলে ২ অক্টোবর মুক্তি পাচ্ছে 'কেয়ার অফ জার্নি'। আমরা আশা করছি যে মানুষের ছবিটা ভাল লাগবে। ছবিটা বক্স অফিসে কী হবে জানি না, কিন্তু সব ছবি বানানোর পিছনে একটা উদ্দেশ্য থাকে, একটা সততা থাকে। সেটা এই ছবির মধ্যে ছিল। প্রতীক, প্রযোজকের মধ্যে সেটা ভীষণ ভাবে ছিল। টেকনিক্যাল টিম খুব ভাল ছিল", জানালেন নায়িকা।

বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুজোর আনন্দ, অর্থ বদলে যায়। ছোটবেলার পুজোর কোন জিনিসটা তিনি সবথেকে বেশি মিস করেন? দর্শনা জানালেন, "সরলতা। আমাদের বাড়ির পিছনে একটা বাগান আছে। সেখানে শিউলি গাছ ছিল। এখন কি আর আছে? ঠিক জানি না। বাবা বলতে পারবে। খেয়াল পড়ছে না। খেয়াল করিনি বহু বছর। ঠাকুমা পুজোর আগে সাজি ভরে বাগান থেকে শিউলি ফুল তুলে আনত। শিউলি ফুলের গন্ধ আসত, সেটা মনে পড়ে। পুজোর ঠিক মুখেই পরীক্ষা শেষ হতো, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই ফেস্ট হতো। পাড়ায় নৃত্যনাট্যে অংশ নিতাম পুজোর সময় সেটার রিহার্সাল চলত। এসব কিছু নিয়েই কাটত। বাবা থেকে শুরু করে সবাই হাত খরচ দিত, সেটা খুব মজার ছিল। নতুন জামা কেনা, নতুন জামার গন্ধ প্রচণ্ড ভাবে ছিল। পুজো নিয়ে উত্তেজনাটা আমার এখনও যথেষ্ট কাজ করে। আমি চাই এটা যেন বহু বছর আমার মধ্যে বেঁচে থাকে।"

তাঁর আরও সংযোজন, "পুজোবার্ষিকী খুব মিস করি। ওটাও একটা মজা ছিল। আসলে পরীক্ষা চলত, তার মধ্যে পুজোবার্ষিকী পড়তাম। ভাবতাম কবে পরীক্ষা শেষ হবে আর এগুলো পড়ব। পরীক্ষাটা শেষ হতো আর ব্যাস পুজোবার্ষিকী পড়া শুরু হতো। ওটার একটা আলাদা মজা ছিল দুপুরবেলা পড়া পুজোর ছুটিতে। এখন আর পুজোবার্ষিকী কোথায় পড়া হয়। সারারাত জেগে ঠাকুর দেখার উত্তেজনাটা মিস করি। ওটা আর হয় না, কারণ মূলত ওই ভিড় ভাল লাগে না। সঙ্গীও পাই না, যে আমার সঙ্গে যাবে, বলবে 'চল দেখি'। আমার হাইস্কুলে ২-৩ জন বন্ধু ছিল যাঁরা হোমওয়ার্ক করত যে এই এই প্যান্ডেলগুলো দেখতেই হবে। এই হোমওয়ার্ক কেউ আর করে না, টিক মেরে যেতেই হবে, এটা আর হয় না। পুজো আসে, বিশেষ মজা করে কেটে যায়, কিন্তু ওই ব্যাপারটা হয় না। হতেই পারে কখনও। এটা নিয়ে ভাবি এখনও যে কোনও একটা পুজো ওই ভাবে কাটাব।"

ADVERTISEMENT