৩৫৫ বছরের পুজো অভিনেতা বিশ্বনাথ বসুদের। প্রতি বছর পুজোয় দেশের বাড়ি ফেরেন তিনি। পুজোর রীতিনীতি নিয়ে আজকাল ডট ইন-কে কী জানালেন তিনি?
বিশ্বনাথ বলেন, "১০০৮টা বেল পাতা দিয়ে হোম হয় আমাদের বাড়িতে। এই রীতিটার আসল কারণ আমার ঠিক জানা নেই। পূর্বপুরুষদের আমল থেকেই চলছে এই নিয়ম।"
অভিনেতা আরও বলেন, "আমরা যেহেতু ব্রাহ্মন নই, তাই আমাদের অন্নভোগ দেওয়ার রীতি নেই। তবে আমাদের বাড়িতে চিনির ভোগ দেওয়া হয়। এক সময় সপ্তমীতে সাত কিলো, অষ্টমীতে আট কিলো এরকম করে ভোগ দেওয়া হত। সেই সময় আমাদের বাড়িতে মিষ্টির দোকান ফ্রাঞ্চাইজি খুলত। ছোটবেলায় দেখছি বাড়ির দালানেই বসত মিষ্টির দোকান। আর একটা জিনিস যেটা সারা বছর দেখা না গেলেও পুজোর সময় আমাদের বাড়িতে আসে, সেটা হল কদমা। কদমা আমাদের ভোগের মধ্যে থাকে।"
বিশ্বনাথ বসুর কথায়, "আশির দশকে গ্রামটা আরও একটু শান্ত, আরও একটু অন্ধকার ছিল। তাই পুজোর সময় অনেক লাইট জ্বলতে দেখে মনে হত, রাতের বেলাতেও দিনের আলো আছে। ভয় কম করত। আর শহর থেকে যখন আত্মীয়রা আসতেন, তখন উৎসবের আসল মেজাজটা পাওয়া যেত। কিন্তু পুজোর শেষে ওঁরা চলে যাওয়ার সময় মনে হত আলোগুলো ওঁদের সঙ্গে শহরের দিকে চলে যাচ্ছে। আমি কখনও পুজোর সময় বাইরে কাজ রাখিনি। সারা বছর কাজ করলেও এই সময়টা আমি আমার শিকড়ের টানে ফিরে আসি। যতদিন বেঁচে থাকব, পুজোয় বাড়ি ফিরব।"