দুর্গাপুজো মানেই নতুন জামাকাপড়, প্যান্ডেল হপিং, অঞ্জলি আর পেটপুজো। পুজোর খাওয়াদাওয়ার পর্বে মিষ্টি থাকবে না, তা কি হয়! রসগোল্লা, সন্দেশ, পায়েসের পাশাপাশি এ বার বাড়িতেই বানিয়ে ফেলতে পারেন একটু অন্যরকম মিষ্টি—শ্রীখন্ড।
খেতে যেমন সুস্বাদু, বানাতেও তেমন কঠিন নয়। বিশেষ করে পুজোর ব্যস্ততার মধ্যে খুব বেশি সময় রান্নাঘরে না কাটিয়েও তৈরি করে রাখা যায় এই মিষ্টি। শেফ সঞ্জীব কাপুরের রেসিপি অনুসরণ করে কীভাবে বাড়িতেই তৈরি করবেন মসৃণ, ক্রিমি শ্রীখন্ড, রইল হদিশ।
জল ঝরানো দই — ১.৫ কাপ
চিনি — ৩/৪ কাপ
এলাচ গুঁড়ো — ১/২ চা চামচ
জায়ফল গুঁড়ো — এক চিমটি
জাফরান — বড় এক চিমটি
হালকা গরম জল — ১ টেবিল চামচ
চিরঞ্জি — ২ টেবিল চামচ
আমন্ড কুচি — ১-২ টেবিল চামচ
পেস্তা কুচি — সাজানোর জন্য
টক দই একটি পরিষ্কার সুতির কাপড়ে বেঁধে সারারাত ঝুলিয়ে রাখুন। দইয়ের অতিরিক্ত জল ভালোভাবে ঝরে গেলে তৈরি হবে হাং কার্ড। শ্রীখন্ডের জন্য দই যেন খুব বেশি টক না হয়, সে দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখুন।
কীভাবে বানাবেন?
প্রথমে একটি বড় পাত্রে ১.৫ কাপ জল ঝরানো দই নিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিন। হুইস্ক বা চামচ দিয়ে এমনভাবে ফেটাতে হবে যাতে দইয়ের মধ্যে কোনও দানা না থাকে এবং সেটি একেবারে মসৃণ ও ক্রিমি হয়ে যায়।
এ বার দইয়ের সঙ্গে ৩/৪ কাপ চিনি মিশিয়ে দিন। গুঁড়ো চিনি ব্যবহার না করলে চিনি গলে যেতে একটু সময় লাগবে। তাই দই ও চিনির মিশ্রণটি ঢেকে প্রায় ১৫-২০ মিনিট ঘরের তাপমাত্রায় রেখে দিন।
চিনি পুরোপুরি গলে গেলে মিশ্রণটি কিছুটা পাতলা হয়ে আসবে। এ বার তাতে ১/২ চা চামচ এলাচ গুঁড়ো এবং এক চিমটি জায়ফল গুঁড়ো দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। জায়ফল বেশি দেবেন না। বেশি হয়ে গেলে শ্রীখন্ডের স্বাদ তেতো হয়ে যেতে পারে।
এ বার মিশ্রণটি একটি ছাঁকনির মধ্যে দিয়ে ছেঁকে নিন। চামচ বা স্প্যাচুলার সাহায্যে আলতো করে ঘষে ঘষে পুরো মিশ্রণটি ছেঁকে নিতে হবে। এই ধাপটি বাদ দেবেন না। এর ফলেই শ্রীখন্ডের টেক্সচার হবে একেবারে মসৃণ, নরম এবং ক্রিমির মতো। আগে থেকে এক টেবিল চামচ হালকা গরম জলে ভিজিয়ে রাখা জাফরান এ বার মিশিয়ে দিন। জাফরান শুধু শ্রীখন্ডে সুন্দর সোনালি রংই আনবে না, এর সুবাসও বাড়িয়ে দেবে।
এরপর ২ টেবিল চামচ চিরঞ্জি এবং ১-২ টেবিল চামচ আমন্ড কুচি দিয়ে খুব আলতো হাতে মিশিয়ে নিন। বাদামের হালকা ক্রাঞ্চ ক্রিমি শ্রীখন্ডের স্বাদ আরও বাড়িয়ে দেবে।
মিশ্রণটি তৈরি হয়ে গেলে একটি ঢাকা দেওয়া পাত্রে রেখে ফ্রিজে ঢুকিয়ে দিন। কয়েক ঘণ্টা ভালোভাবে ঠান্ডা হতে দিন। শ্রীখন্ড ঠান্ডা করেই পরিবেশন করলে এর স্বাদ ও টেক্সচার সবচেয়ে ভালো লাগে। পরিবেশনের আগে সুন্দর বাটিতে শ্রীখন্ড তুলে তার উপর জাফরান, আমন্ড কুচি, চিরঞ্জি এবং পেস্তা কুচি ছড়িয়ে দিন। সহজ উপকরণে তৈরি এই ঠান্ডা, ক্রিমি মিষ্টি পুজোর মেনুতেও আনতে পারে নতুন স্বাদ।