দুর্গাপুজোর দিনগুলো কেবল মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে ঠাকুর দেখার জন্যই নয়, ভ্রমণপিপাসু বাঙালির জন্য অক্টোবর মাস হল পাহাড়ে গিয়ে প্রকৃতির কোলে হারিয়ে যাওয়ার অন্যতম সেরা সময়। শরতের পরিষ্কার নীল আকাশ এবং মিষ্টি আবহাওয়ায় হিমালয়ের কোলে ট্রেকিং করার মতো আনন্দ খুব কমই আছে। আপনার কাছে যদি পুজোর ছুটিতে মাত্র ৫ দিনের একটি ছোট উইন্ডো থাকে, তবে হিমালয়ের কোল ঘেঁষে যাওয়া এই ৫টি আপাত সহজ থেকে মাঝারি কাঠিন্যের ট্রেকে নির্দ্বিধায় ঘুরে আসতে পারেন:
১. চোপতা–চন্দ্রশিলা–তুঙ্গনাথ ট্রেক (উত্তরাখণ্ড)
সর্বোচ্চ উচ্চতা: ১২,০৮৩ ফুট। কাঠিন্য: সহজ থেকে মাঝারি
বিশেষত্ব: চোপতা থেকে শুরু হওয়া এই ট্রেকিং ট্রেইলটি পাহাড়ি তৃণভূমি (বুগিয়াল) পার করে আপনাকে নিয়ে যাবে ১২,০০০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত বিশ্বের সর্বোচ্চ শিব মন্দির 'তুঙ্গনাথ'-এ। সেখান থেকে আরও কিছুটা উঠে চন্দ্রশিলা চূড়ায় পৌঁছালে চোখ জুড়িয়ে যাবে নন্দা দেবী ও ত্রিশূলের মতো বিশালাকার তুষারাবৃত শৃঙ্গের ৩৬০-ডিগ্রি দৃশ্যে। চাইলে দেওরীয়া তাল হ্রদেও ছোট একটা চক্কর মেরে আসা যায়।
২. দেয়ারা বুগিয়াল ট্রেক (উত্তরাখণ্ড)
সময় লাগবে: ৪ থেকে ৫ দিন।
সর্বোচ্চ উচ্চতা: ১২,০০০ ফুট। কাঠিন্য: সহজ থেকে মাঝারি
বিশেষত্ব: বারসু গ্রাম থেকে শুরু হওয়া এই ট্রেকটি ভারতের সবচেয়ে বিস্তৃত এবং সবুজ উচ্চ-পর্বত তৃণভূমির জন্য বিখ্যাত। এখানে চড়াই খুব মৃদু, যা নতুন ট্রেকার ও পরিবারের জন্য দারুণ আরামদায়ক। অক্টোবরের পরিষ্কার আকাশে এখান থেকে বান্দরপুচ্ছ ও গঙ্গোত্রী শৃঙ্গ স্পষ্ট দেখা যায়।
৩. সান্দাকফু–শ্রীখোলা শর্ট ট্রেক (পশ্চিমবঙ্গ/সিকিম সীমান্ত)
সময় লাগবে: ৫ দিন (মানেভঞ্জন থেকে সান্দাকফু হয়ে শ্রীখোলা)।
সর্বোচ্চ উচ্চতা: ১১,৯৪১ ফুট। কাঠিন্য : সহজ থেকে মাঝারি।
বিশেষত্ব: শিলিগুড়ি বা দার্জিলিং থেকে অতি সহজেই মানেভঞ্জন পৌঁছে সিঙ্গালিলা ন্যাশনাল পার্কের পাশ দিয়ে টুমলিং ও কালিপোখরি হয়ে করা যায় এই ট্রেক। সান্দাকফু থেকে বিখ্যাত 'স্লিপিং বুদ্ধ' (মাউন্ট এভারেস্ট ও কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বতমালা)-র ওপর সূর্যোদয়ের রূপসী রূপ দেখে শ্রীখোলা হয়ে নিচে নেমে আসা যায়।
৪. ভৃগু লেক ট্রেক (হিমাচল প্রদেশ)
সময় লাগবে : ৪ থেকে ৫ দিন (মানালির কাছে)।
সর্বোচ্চ উচ্চতা: ১৪,১০০ ফুট। ট্রেকের কাঠিন্য: মাঝারি।
বিশেষত্ব: মানালির কাছে অবস্থিত এই অ্যালপাইন ট্রেকটি কুল্লু উপত্যকার সবুজ ঘাসের গালিচা ও খাড়ির ওপর হাঁটার অসাধারণ অনুভূতি দেয়। উচ্চতা বেশ খানিকটা বেশি হলেও, প্রতিদিনের হাঁটার দূরত্ব বেশ কম হওয়ায় নতুনদের জন্য এটি অত্যন্ত রোমাঞ্চকর।
৫. সবরগ্রাম–ফালুট ডিলাইট ট্রেক (পশ্চিমবঙ্গ)
সময় লাগবে: ৫ দিন (মোট ৪২ কিমি)|
সর্বোচ্চ উচ্চতা: ১১,৯২৭ ফুট(৩,৬৩৬ মিটার)| কাঠিন্য: সহজ-মাঝারি
বিশেষত্ব: সিঙ্গালিলা ন্যাশনাল পার্কের শ্রীখোলা থেকে শুরু হওয়া এই অফবিট ট্রেইল আপনাকে নিয়ে যাবে নিরিবিলি সবরগ্রাম ও ফালুটে। পর্যটকদের অতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘার কোল ঘেঁষে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার এক স্বর্গীয় অনুভূতি পাবেন এখানে।