নবমী মানেই পুজোয় ঘোরার শেষ দিন৷ আবার এক বছরের অপেক্ষা৷ ভাল শাড়ি জমকালো সাজ সবই যেন নবমীর রাতের জন্য তোলা থাকে৷ কিন্তু নবমীতে দিনের বেলাও তো ঘুরতে হবে৷ দিন থেকে রাত, শাড়ি হোক বা জিন্স কেমন ভাবে সাজবেন? কীভাবে করবেন মেকআপ, আজকাল ডট ইন-এ টিপস দিলেন মেকআপ আর্টিস্ট রেশমি চক্রবর্তী। রেশমির মতে, শাড়ি সালোয়ার যাই পরা হোক, সম্পূর্ণ সাজ মাথায় রাখতে হবে৷
শাড়ির সঙ্গে মানানসই চোখ ও চুল: শাড়ির রং, কাজ, গয়না এবং পুরো লুকটার মুড দেখা জরুরি৷ শাড়ির সঙ্গে সফট গোল্ড, ব্রোঞ্জ, ব্রাউন স্মোকি আই বা কাজল খুব ভাল লাগে। লাল পাড় সাদা শাড়ির সঙ্গে ডিফাইন্ড আই, লাল টিপ, লাল লিপস্টিক ক্লাসিক কম্বিনেশন। আবার শাড়ি যদি খুব ভারী হয়, তাহলে চোখে একটু ড্রামাটিক লুকও রাখা যায়। শাড়ির সঙ্গে লো বা হাই স্লিক্ বান, টেক্সচার্ড বান, ফুল দিয়ে সাজানো খোঁপা কিংবা সফট কার্লস সুন্দর লাগে। তবে সবার জন্য একই হেয়ারস্টাইল নয়। কারও মুখে খোঁপা ভাললাগে, আবার কারও ক্ষেত্রে খোলা চুল।
ছোট্ট টিপস: স্লিক বান করলে হয় হার নইলে দুল পরুন, ব্লাউজের গলা অনুযায়ী। গলা খোলা বেশি হলে চোকার ব্যবহার করুন, তখন কানের দুল পরলেও হয় না পরলেও। আর গলা বন্ধ হলে যদি কানফুল পরতে পারেন দারুণ লাগবে।
ওয়েস্টার্ন লুক: আউটফিটটা মিনিমাল হয়, তাহলে সফট ব্রাউন স্মোকি আই, উইংড লাইনার, গ্লসি লিপস লুকটাকে আকর্ষণীয় করা যায়। পার্টি ওয়্যারের সঙ্গে ডিফাইন্ড লাইনার বা একটু বোল্ড লিপও ভাললাগে। হেয়ারস্টাইলে ওপেন ওয়েভস, সফট কার্লস, স্লিক বান কিংবা হাই পনিটেল—সবই সুন্দর অপশন। তবে সাজটা ট্রেন্ড দেখে নয়, কোনটা আপনাকে মানাবে সেইমতো হবে৷
মেকআপ ট্রেন্ড:
স্কিনলাইক বেস: ত্বকের টেক্সচার পুরোপুরি মুছে না দিয়ে স্বাভাবিক, সুন্দর ফিনিশ।
ব্লাশের মাধ্যমে মুখে সতেজতা এবং একটা সুন্দর মুড তৈরি করা।
ব্লেন্ড করা কাজল বা স্মোকি আই, যা চোখকে নরম ও আকর্ষণীয় দেখায়।
সফট গ্লো: এমন হাইলাইট, যা ত্বকের সঙ্গে মিশে থাকবে।
লিকুইড বা ক্রিম ব্লাশ ব্যবহার করলে সেটা ত্বকের সঙ্গে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নেওয়া জরুরি।
হাইলাইটারের ক্ষেত্রেও সফট গ্লো। পুরো মুখে হাইলাইটার লাগানোর কোনও প্রয়োজন নেই। হাইলাইটার আর ব্লাশার যেন মিলে যায়, এটা খেয়াল রাখতে হবে। ন্যাচারালি গ্লোয়ি সিরাম মেকআপের আগে, গ্লোয়ি স্প্রে পরে ইউজ করলে মেকআপটা ন্যাচারালি গ্লোয়ি দেখাবে।
প্রথমবার মেকআপ: প্রথমেই অনেক প্রোডাক্ট কিনে ফেলার দরকার নেই। নিজের স্কিন টাইপ বুঝুন, একটা ভালো ময়েশ্চারাইজার, সঠিক শেডের বেস প্রোডাক্ট, কনসিলার, ব্লাশ, কাজল বা মাসকারা এবং নিজের পছন্দের লিপস্টিক দিয়েও খুব সুন্দর একটা লুক তৈরি করা যায়। প্রথম দিনেই পারফেক্ট মেকআপ করার চাপ নেবেন না।
ফেস কাটিং অনুযায়ী হেয়ারস্টাইল:
গোল মুখ: মুখের দুপাশে সফট লেয়ার যা চিবুক পর্যন্ত লম্বা, সাইড পার্টিং বা এমন হেয়ারস্টাইল ভালো লাগতে পারে।
ওভাল মুখ: অনেক ধরনের হেয়ারস্টাইল মানায়—ওপেন ওয়েভস থেকে শুরু করে বান বা পনিটেল।
স্কোয়ার মুখ: সফট ওয়েভস, ফেস-ফ্রেমিং লেয়ার বা নরম কার্লস সুন্দর লাগে।
লম্বাটে মুখ: দুপাশে ভলিউম, সফট ফ্রিঞ্জ বা কার্টেন ব্যাংসের মতো স্টাইল মুখের অনুপাতকে সুন্দরভাবে ব্যালান্স করতে পারে।
হার্ট-শেপড মুখ: চিনের কাছাকাছি সফট ভলিউম এবং ফেস-ফ্রেমিং লেয়ার ভাল মানাতে পারে।
এক্সট্রা: ডাবল চিন মুখের চিন-টাকে কিছুটা গোল করে দেয়। তাই হেয়ারকাটটা যেন সামনের দিকে বেশি ছোট না হয়, কারণ তাহলে মুখ আরও ভারী লাগবে এবং বয়সও বেশি মনে হবে। এই ধরনের মুখে অ্যাসিমেট্রিক্যাল লং বব।
মেকআপ ধরে রাখার উপায়: অয়েলি স্কিন হলে হালকা ময়েশ্চারাইজার এবং উপযুক্ত প্রাইমার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে প্রাইমার সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়; ত্বকের প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নেওয়াই ভালো। গ্রিপ প্রাইমার বা ম্যাজিক ড্রপ ব্যবহার করতে পারি।
বেস তৈরি করার সময় খুব বেশি ফাউন্ডেশন বা কনসিলার ব্যবহার করবেন না। অল্প অল্প করে প্রোডাক্ট লাগিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন। তারপর যেখানে তেল বেশি বেরোয়, যেমন নাকের পাশ, কপাল ও চিবুক, সেখানে প্রয়োজনমতো লুজ পাউডার ব্যবহার করুন।
এর সঙ্গে ঘাম ও আর্দ্রতা সহ্য করতে পারে, এমন উপযুক্ত সেটিং আর ফিক্সিং স্প্রে ব্যবহার করা যায়। তবে কোনও প্রোডাক্টই সব পরিস্থিতিতে মেকআপ সম্পূর্ণ অটুট রাখার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
আর বাইরে থাকাকালীন ঘাম হলে মুখ ঘষবেন না। ব্লটিং পেপার বা টিস্যু দিয়ে আলতো করে চেপে নিন। মেকআপ টাচ-আপ করার আগে ত্বকের উপর জমে থাকা ঘাম ও অতিরিক্ত তেল সরিয়ে নেওয়াই ভালো।
লিপস্টিক: নিজের স্কিন টোন, স্কিন আর লিপ এর আন্ডারটোন, ঠোঁটের স্বাভাবিক রং, আউটফিট এবং পুরো মেকআপের সঙ্গে শেডটা মানাচ্ছে কি না, সেটা দেখতে হবে। যেমন, ওয়ার্ম আন্ডারটোনে অনেক সময় পিচ, টেরাকোটা, ব্রিক রেড বা ওয়ার্ম ব্রাউনের বিভিন্ন শেডের লিপস্টিক খুব সুন্দর লাগে। আবার কুল আন্ডারটোনে বেরি, মভ বা কিছু ব্লু-বেসড রেডের বিভিন্ন শেডের লিপস্টিক দারুণ মানাতে পারে। তবে এগুলো কোনও নির্দিষ্ট নিয়ম নয়—একই শেড বিভিন্ন মানুষের ঠোঁটে আলাদা দেখাতে পারে। নবমীর ট্র্যাডিশনাল বাঙালি সাজে ক্লাসিক রেড বা ডিপ রেড লিপস্টিক অসাধারণ লাগে। আবার চোখে যদি একটু বেশি ড্রামাটিক মেকআপ করা হয়, তাহলে সফট নিউড বা রোজি ব্রাউন লিপ শেড দিয়ে সুন্দর ব্যালান্স তৈরি করা যায়।