‘বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে’ কিংবা ‘'আয়রে ছুটে আয়, পুজোর গন্ধ এসেছে', ছোটবেলা জুড়ে যে সব গান ছিল একটা মিষ্টি মেয়ের কণ্ঠ শোনা যেত, সেই শিশুশিল্পী আর কেউ নন, প্রবাদপ্রতিম শিল্পী সলিল চৌধিরীর মেয়ে অন্তরা চৌধুরী৷ আজকাল ডট ইন-এর পুজোর গল্পের পাতায় জুড়ল অন্তরা চৌধুরীত ছোটবেলার গল্প, গান স্মৃতি।
ছোটবেলার পুজো বলতেই শিল্পীর মনে পড়ে পুজোর সময় দিদার সঙ্গে ঠাকুর দেখতে গিয়ে ভোগ খাওয়া৷ বোন সঞ্চারীর সঙ্গে মিলিয়ে একরকম জামা হত পুজোয়, কেবল রং আলাদা৷ নীল আকাশ পেঁজা তুলোর মতো মেঘ আর ঢাকের আওয়াজ কানে গেলেই মনে হত পুজো চলে এসেছে৷ ছোটবেলার পুজো ছিল আনন্দের৷ কিন্তু এখন বাবা মাকে মিস করেন৷
পড়াশোনা গানবাজনা সবকিছুতেই শান্ত আর বাধ্য ছিলেন অন্তরা৷ তাহলে তো গান মানে রেওয়াজ করার জন্য বাবার কাছে কখনো বকুনি খাওয়া হয়নি? আজকাল ডট ইন-এর প্রশ্নে অন্তরা বলেন, “বাবা বকতেন না৷ একবার নাদির দিন দা গাওয়ার সময় কিছুতেই উচ্চারণ করতে পারছি না, বাবা বললেন মুখটা খুলে গাও, এটুকুতেই ভ্যাঁ করে কেঁদে ফেললাম৷ তারপর যখন বড় হলাম, তখন ‘এমনি সঘন বরষায় তুমি কেন এলে না’ একটা দেশ রাগের ওপর গান গেয়েছিলাম। বাবা আমাকে মানু বলে ডাকতেন৷ খুব এক্সপ্রেশন দিয়ে গাইছি, বাবা আলাদা ডেকে বলেছিলেন মানু, উচ্চারণটা পরিষ্কার করো। এক্সপ্রেশন খুব ভালো হচ্ছে, কিন্তু মুখটা খুলে গাও। এই দুবারই বাবা আমায় একটু বলেছিলেন৷”
মায়ের কাছে সবসময় বকাঝকা খেলেন মা ছিলেন তাঁর বন্ধু৷ ছোটবেলার পুজো জুড়ে রয়েছে গান৷ পুজোর গানের রেকর্ডিং। অন্তরার কথায়, “তখন আমার দুটো গান বেরিয়েছিল, ‘বুলবুল পাখি ময়না টিয়ে’ আর ‘পুজোর গন্ধ এসেছে’। আর মাছি। এই গানগুলো হিট তখন। পুজোতে অনুষ্ঠানে এই গানগুলো গাইতাম৷”
শুধু সেইসময় নয়, আজও গানগুলি বাচ্চাদের আনন্দ দেয়৷ কী এমন ম্যাজিক ছিল সেইসব গানে? অন্তরা বলেন, গানগুলো আজও প্রাসঙ্গিক। বাবা এমনভাবে গানের কথাগুলো লিখেছিল চিরকাল গানগুলো থাকল৷ বাবার মেয়ে এবং শিষ্য হিসাবে আমার কাজ বাবার গানগুলোকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া৷”
এখন আর কেন বাচ্চাদের জন্য গান তৈরি হয়না? অন্তরা বলেন সেইসময় বাবার কাছে এই ধরনের গান বানানোর প্রস্তাব আসত৷ “হিন্দি ছবি মিনু-তে আমার গানগুলো খুব পপুলার হয়েছিল। ‘তারে রে কালি রে’, ‘তেরি গলিও মে হাম আয়ে’ মান্না কাকার সাথে। তো ওই সময় তখন ভি. বালসারা বাবার কাছে আসেন। সলিলদা, অন্তরাকে দিয়ে যদি ছোটদের গান করানো হয় পুজোর জন্যে। এভাবেই শুরু হয়েছিল৷ এখন তো শিল্পীদের নিজেদের গান নিজেদেরই প্রমোট করতে হয়। তবে আমরা আবার ছোটদের গান ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি৷ আমার দাদা সঞ্জয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে দেখা যাক৷ ”
বাঙালির কাছে দুর্গাপুজো শুধু নয়, পুজোর ভোগও সমান আবেগের৷ অন্তরা চৌধুরীও তাঁর ব্যতিক্রম নন৷ অষ্টমীর দিন অঞ্জলি দেওয়া ভোগ খাওয়া তাঁর খুব প্রিয়৷ মা দুর্গার কাছে চান পৃথিবীতে যেন শান্তি আসে৷ অন্তরা বলেন, “ মাকে বলব, যুদ্ধ বন্ধ হোক। দ্বিতীয়ত, এই যে বাচ্চারা সারাক্ষণ ফোন ল্যাপটপে মুখ গুঁজে, নয়তো টিউশন পড়া মিলিয়ে সারাদিন ব্যস্ত, খেলার সময় নেই৷ এটা বদলানো দরকার৷ আর আমি যেন আমার বাবার কাজটা আজীবন এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি৷”