Loading...

কুমোরটুলি থেকে যাবেন দেবী দুর্গা, ‘আলাপন’-এর পুজোয় থাকছে একাধিক চমক

আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৪ সালে পথচলা শুরু হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যারোলিনার ফোর্ট মিলের আলাপন দুর্গাপুজোর। কয়েকটি পরিবারের ভালবাসা, একসঙ্গে কিছু করার ইচ্ছে এবং নিজের শিকড় ও সংস্কৃতিকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন থেকেই আলাপনের প্রথম দুর্গাপুজোর সূচনা।

প্রতিষ্ঠা বর্ষ থেকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মহিলা পুরোহিতকে। বাঙালিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে স্থানীয় ভারতীয় এবং অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষকেও সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলার ভাবনা ছিল এই পুজোর।

ADVERTISEMENT

২০২৫ সালে আলাপন-এর দ্বিতীয় বছরের পুজোয় ২৫০-রও বেশি পরিবার অংশগ্রহণ করেছিল। বাঙালি পরিবারের পাশাপাশি বহু অবাঙালি ও স্থানীয় আমেরিকান পরিবারও এই উৎসবে সামিল হয়েছিল।

আরও পড়ুন

আলাপনের পুজো বর্তমানে শুধু একটি পুজো নয় বরং সংস্কৃতি, বন্ধুত্ব ও মিলনের একটি বার্ষিক উৎসব হয়ে উঠছে। ২০২৫ সালে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে পুজোর প্রথাগত আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের পরিবেশনা, গান, নাচ, আবৃত্তি, বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক আয়োজন।

গত বছরের পুজোর অন্যতম বিশেষ দিক ছিল নারী শক্তি এবং সমতার ভাবনা। পুরোহিতের দায়িত্বে ছিলেন মৌমিতা চক্রবর্তী। তিনি পেশায় একজন পাবলিক স্কুল শিক্ষিকা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সূর্যদীপ চক্রবর্তী।

তিনদিন ধরে শিশু থেকে প্রবীণ, সব বয়সের মানুষ একসঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন। বাঙালি ঐতিহ্য, খাবার, সংস্কৃতি ও আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি আলাপন-এর দরজা ছিল সকলের জন্য উন্মুক্ত।

এই বছরে পুজোর মূল ভাবনা ঐতিহ্যকে বজায় রেখে আরও বেশি মানুষকে এই আনন্দের সঙ্গে যুক্ত করা এবং প্রবাসের মাটিতে বাংলা সংস্কৃতির একটি সুন্দর, উন্মুক্ত পরিসর তৈরি করা।

২০২৬ সালের পুজোর সবচেয়ে বিশেষ আকর্ষণ কুমোরটুলি থেকে সরাসরি আলাপন-এর প্রতিমার আগমন। কলকাতার কুমোরটুলির মাটি ও শিল্পীর হাতের ছোঁয়া পেরিয়ে মা দুর্গা এবার প্রথমবারের মতো আসছেন দক্ষিণ ক্যারোলিনায়।

এবারে মহিলা পুরোহিত ছাড়াও পুজোর সঙ্গে যুক্ত থাকছেন মহিলা স্বেচ্ছাসেবকরা। তাঁদের নেতৃত্বে পুজোর আচার-অনুষ্ঠান থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রস্তুতি থেকে কমিউনিটি এনগেজমেন্ট বিভিন্ন দিক এগিয়ে চলে।

বাংলা সংস্কৃতির শিকড়ে দাঁড়িয়েও ‘আলাপন’ ভাষা ও সংস্কৃতির সীমানা পেরিয়ে সকলকে সঙ্গে নিয়ে উৎসব উদযাপনে বিশ্বাসী। প্রতি বছরই মণ্ডপসজ্জা ও শিল্পের মাধ্যমে বাংলার গল্প বলার চেষ্টা থাকে।

বাংলার গ্রাম, লোকশিল্প ও লোকপরম্পরা থেকে শুরু করে আধুনিক বাঙালি শহরের পরিবর্তিত সাংস্কৃতিক রূপ, বিভিন্ন শিল্পভাবনায় সেই ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়।

এই বছর পুজোর প্রথাগত আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, শিশুদের বিশেষ আয়োজন, খাবারের স্টল, ধুনুচি নাচ, ফ্ল্যাশ মব, ফ্যাশন শো, দেবী বরণ, সিঁদুর খেলা ও মিষ্টিমুখসহ নানা আয়োজন থাকছে।

বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠান সকলের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। আলাপনের এই বছরের পরিকল্পনার মূল সুর নারী নেতৃত্ব, বাংলার ঐতিহ্য, শিল্প ও সংস্কৃতির উদযাপন এবং ভাষা-সংস্কৃতির সীমা পেরিয়ে সকলকে একসঙ্গে নিয়ে আসা।

ADVERTISEMENT