Loading...

করোনার সময় যাত্রা শুরু, ২৬-এ থিম 'ফিরে দেখা', গুরুগ্রাম ফের মেতে উঠবে 'SARE Homes'-এর পুজোয়

আজকাল ওয়েবডেস্ক: শেয়ার হোমস সার্বজনীন দুর্গোৎসব স্মৃতি, সেক্টর ৯২, গুরুগ্রাম-এর দুর্গাপুজোর যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২২ সালে, করোনা অতিমারির কঠিন সময়ের ঠিক পরেই। মাত্র ৩০ দিনের প্রস্তুতিতে কয়েকজন বাসিন্দার উদ্যোগে শুরু হওয়া সেই পুজো আজ পাঁচ বছরের পথ পেরিয়ে ২৭০০-রও বেশি পরিবারের এক মিলনোৎসবে পরিণত হয়েছে।

এই যাত্রার শুরুটা ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। পুজোর জন্য অর্থসংগ্রহ হবে কি না, কে পাশে দাঁড়াবেন, কীভাবে প্রতিমা, পুরোহিত, প্যান্ডেল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে- কিছুই নিশ্চিত ছিল না। কিন্তু মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ ও বিশ্বাসেই ২০২২ সালে শেয়ার হোমস সার্বজনীন দুর্গোৎসবে প্রথমবার মা দুর্গার আগমন ঘটে।

ADVERTISEMENT

২০২৫ সালে 'ধ্বনি- ঐতিহ্য ও বিজয়ের প্রতিধ্বনি' ভাবনায় বাংলার বাঁশের ঐতিহ্যবাহী কারুকাজ এবং ওয়ারলি আর্ট-এর মাধ্যমে মহিষাসুরমর্দিনীর কাহিনি তুলে ধরা হয়েছিল। কমিউনিটির সদস্যদের সম্মিলিত সৃজনশীল প্রয়াসের স্বীকৃতি হিসেবে আমরা ১০ বছরের কম মেয়াদের পুজোর বিভাগে 'সেরা পুজো' সম্মান অর্জন করি।

আরও পড়ুন

এবার ২০২৬ সালে আমাদের ভাবনা 'ফিরে দেখা- পুনর্লোকন'। এই থিমের মাধ্যমে আমরা ফিরে তাকাতে চাই বাংলার শিকড়ে। সেখানে থাকছে পুরনো বাংলার বাড়ির আলপনা, ঐতিহ্যবাহী মাদুর এবং বাংলার শিল্পজগতের দুই উজ্জ্বল নাম নন্দলাল বসু ও যামিনী রায়-এর শিল্পভাবনা।

'ফিরে দেখা' শুধু অতীতকে স্মরণ করা নয়, বরং আমাদের শিকড়, শিল্প ও সংস্কৃতির সেই পরিচিত ছবিগুলিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার একটি প্রয়াস।

আমাদের এই পুজো শুধুমাত্র বাঙালি সমাজের জন্য নয়। গুরগাঁওয়ের বাঙালি, অবাঙালি, পরিবার, বন্ধু এবং বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি ও দুর্গাপুজোর সকল অনুরাগীকেই আমরা স্বাগত জানাই।

দুর্গাপুজো মানে শুধু কয়েকদিনের উৎসব নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে স্মৃতি, আবেগ, মানুষের মিলন এবং নিজের শিকড়ে ফিরে যাওয়ার এক অদ্ভুত টান। সেই টান থেকেই দিল্লি-এন.সি.আর এর মাটিতে জন্ম নিয়েছিল শেয়ার হোমস সার্বজনীন দুর্গোৎসব স্মৃতি-র দুর্গাপুজো।

মাত্র ৩০ দিনে শুরু হয়েছিল যে যাত্রা

২০২২ সাল। করোনা অতিমারীর ভয় তখনও পুরোপুরি কাটেনি, তবে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করেছে গোটা পৃথিবী। সেই সময় শেয়ার হোমস-এর কিছু বাঙালি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে করতেই ভাবলেন- এই কঠিন সময়ের পর আমাদের আবাসনেই মা দুর্গা কে যদি আনা যায়।

ভাবনাটি সহজ হলেও বাস্তবায়ন ছিল কঠিন। দুর্গাপুজো তো আর একদিনের অনুষ্ঠান নয়। প্রতিমা, পুরোহিত, প্যান্ডেল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান- সবকিছুর ব্যবস্থা করতে হবে। তার উপর হাতে সময় মাত্র ৩০ দিন। কতজন পাশে দাঁড়াবেন, আদৌ এত অল্প সময়ে পুজো করা সম্ভব হবে কি না- কিছুই তা নিশ্চিত ছিল না।

তবু কোথাও একটা বিশ্বাস ছিল- সেই সময় মা দুর্গাকে আমাদের মধ্যে নিয়ে আসার, তাঁর আশীর্বাদ পাওয়ার। সেই বিশ্বাস থেকেই শুরু হল পথচলা। কয়েকজনের উদ্যোগে শুরু হলেও ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন আরও মানুষ। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সবাই পাশে দাঁড়ালেন। প্যান্ডেল তৈরি হল, প্রতিমা এল, পুরোহিত এলেন, পুজো হল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও হল।

এভাবেই ২০২২ সালে শেয়ার হোমস-এ প্রথমবার মা দুর্গার আগমন ঘটল। সেই প্রথম পুজোর যাত্রা থেকেই শুরু হয়েছিল ছোটো ছোটো পরিকল্পনা, যে গুলো প্রতি বছর একটু একটু করে আরও বড় হয়েছে।

‘ধ্বনি’— গত বছরের সাফল্য

২০২৫ সালে আমাদের পুজোর ভাবনা ছিল ‘ধ্বনি– ঐতিহ্য ও বিজয়ের প্রতিধ্বনি’, বাংলার ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি, আর ভিতরে মা দুর্গা মহিষাসুরমর্দিনী রূপের বিজয়ের কাহিনী। প্যান্ডেলের বাইরের অংশে ছিল বাঁশের ঐতিহ্যবাহী কারুকাজ, আর ভিতরে ওয়ারলি আর্ট-এর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল মহিষাসুরমর্দিনীর কাহিনী। প্যান্ডেলের প্রতিটি অংশে ছিল কমিটির মানুষের হাতে তৈরি শিল্প এবং সেই শিল্পকে সাজানোর ভালবাসা।

সম্মিলিত সেই প্রয়াসের স্বীকৃতিও মিলেছিল। ২০২৫ সালে ১০ বছরের কম মেয়াদের পুজোর বিভাগে শেয়ার হোমস সার্বজনীন দুর্গোৎসব স্মৃতি ‘সেরা পুজো’র সম্মান অর্জন করে। এই পুরস্কার শুধু আয়োজকদের নয়, যাঁরা সময়, শ্রম, সৃজনশীলতা এবং ভালোবাসা দিয়ে পুজোটাকে গড়ে তুলেছেন- সেই পুরো কমিউনিটির।

২০২৬ - ‘ফিরে দেখা’

পাঁচ বছরের এই যাত্রায় এবার আমরা বর্তমান থেকে একটু পিছনে তাকাতে চাই। তাই এবারের পুজোর ভাবনা- ‘ফিরে দেখা, পুনর্লোকন’ এই ফিরে দেখা শুধু পুরোনো দিনের স্মৃতি মনে করা নয়। ফিরে দেখা আমাদের শিকড়কে, বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতিকে, সেই পরিচিত ছবিগুলিকে যেগুলি আমাদের ছোটোবেলা, পরিবার এবং বাংলার সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের কথা মনে করিয়ে দেয়।

এবারের পুজোমণ্ডপ উঠে আসবে পুরোনো বাংলার বাড়ির সাজসজ্জায় ব্যবহৃত আলপনা, বাংলার ঐতিহ্যবাহী মানুষ, এবং বাংলার শিল্পকলার দুই উজ্জ্বল নাম নন্দলাল বসু ও যামিনী রায়। আলপনা বাংলার ঘরোয়া সংস্কৃতির একটি অঙ্গ। তার মধ্যে যেমন রয়েছে সৌন্দর্য, তেমনই রয়েছে শুভকামনা ও প্রার্থনা। সেই ঐতিহ্যের মাধ্যমে এবার মণ্ডপটাকে তুলে ধরার পাশাপাশি নন্দলাল বসু ও যামিনী রায়ের শিল্পভাবনার সঙ্গে তাঁর মেলবন্ধনের চেষ্টা থাকবে এবারের পুজোয়।

উদ্দেশ্য একটাই, যে বাংলাকে আমরা মনে রেখেছি, সেই বাংলাকে নতুন প্রজন্মের সামনে আবার তুলে ধরা। ফিরে দেখা হোক সবার সঙ্গে ২০২৬-এর এই পুজোয় তাই আমাদের আমন্ত্রণ শুধু বাঙালি সমাজের জন্য নয়, আমাদের আশপাশে গুরগাঁওয়ের সমস্ত মানুষকে- বাঙালি, অবাঙালি, পরিবার, বন্ধু এবং বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি ও দুর্গাপুজোর সঙ্গে অনুরাগীদের।

এসো সবাই বাংলার সেই চেনা ছবি আলপনা, মানুষ, শিল্প, দুর্গা, প্রতি সন্ধ্যার পুজোর গন্ধ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আনন্দগুলো- আর সবকিছুর কেন্দ্রে মা দুর্গা।হয়তো এই ‘ফিরে দেখা’-য় আপনি খুঁজে পাবেন আপনার নিজের কোনও স্মৃতি।

ADVERTISEMENT