আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২২ সালে পথচলা শুরু হয়েছিল ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ভ্যালির মানটেকায় ‘আদ্যা’ দুর্গাপুজোর। শুরুতে এই দুর্গাপুজো নিয়ে মানুষের ধারণা সীমিত থাকলেও কমিটির সদস্যরা জানাচ্ছেন, ভালবাসা, পরিশ্রম ও একতায় তা ধীরে ধীরে এক বিশাল পরিবারের রূপ নিয়েছে।
২০২৩ থেকে প্রতি বছর নতুন নতুন ভাবনা ও থিমের মাধ্যমে পুজোকে আরও অর্থবহ করে তোলা হয়েছে। ‘আদ্যা’ বর্তমানে একটি সর্বভারতীয় মিলনমেলা। এখানে ভারতের নানা প্রান্তের মানুষ একসঙ্গে এই উৎসবে অংশ নেন। কোনও প্রবেশমূল্য বা সদস্যপদের ফি ছাড়াই এই পুজো সকলের জন্য উন্মুক্ত।
ADVERTISEMENT
প্রতি বছর হাজারেরও বেশি মানুষের সমাগম হয়। একশোরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে অংশ নেন। কুমারী পুজো, মহিলা পুরোহিত, চন্দননগরের আলোকসজ্জা ও কলকাতা-শৈলীর প্যান্ডেলে বিশেষ পরিচয় পেয়েছে এই ‘আদ্যা’।
এই পুজোয় প্রতি বছর মানটেকা এবং লাথর্পের মেয়র, কাউন্টি সুপারভাইজার এবং মার্কিন কংগ্রেসম্যানের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত হন। পুজোর আয়োজন ও কমিউনিটির প্রতি অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁদের কাছ থেকে প্রতি বছর সার্টিফিকেট অফ রেকগনিশনও পায় এই কমিটি। এই পুজোর প্রশংসা করেছেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান যশ হার্ডারও।
গত বছরে কী থিম ছিল ‘আদ্যা’ দুর্গাপুজোর?
২০২৫ সালে ‘আদ্যা’ দুর্গাপুজোর ভাবনা ছিল ‘A Tribute to Tribal Heritage’। শিকড় ও লোকসংস্কৃতির প্রতি এক আন্তরিক শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয়েছিল গত বছর। বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল কুমারী পুজো। সেখানে ১৩১ জন কন্যাশিশুকে মা দুর্গার রূপে পুজো করা হয়েছিল। জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয়ের কোনও ভেদাভেদ না রেখে পূজিত হয়েছিল কন্যারা।
পুজোর পাশাপাশি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল গত বছরে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে দু’জন আদিবাসী মেয়ের এক বছরের শিক্ষার দায়িত্ব নিয়েছিল ‘আদ্যা’ কমিটি। অনুদান থেকে পাওয়া অর্থ পশু আশ্রয়ে দেওয়া হয়েছিল।
স্থানীয় শিল্পীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন স্থানীয় ভেন্ডরের অংশগ্রহণে গত বছরের পুজো হয়ে উঠেছিল সকলের মিলিত উৎসব। আর গত বছরের বিশেষ আকর্ষণ টেসলা লাইট শো ভিন্ন অভিজ্ঞতা দিয়েছিল দর্শকদের। ২০২৬ সালে এই দুর্গাপুজো পা দিল পঞ্চম বর্ষে।
এই বছরের ভাবনা কী?
এই বছরের ভাবনা ‘পঞ্চতত্ত্ব’ অর্থাৎ জীবনের পাঁচটি মৌলিক উপাদান। মাটি, জল, আগুন, বাতাস ও আকাশ এই পাঁচ উপাদানের সঙ্গে পুজোর পাঁচ বছরের যাত্রাপথকে মিলিয়ে এবারের আয়োজন। পঞ্চম বর্ষে মা আদ্যা-কে নতুন পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি কমিটির নামও রাখা হয়েছে Aadya-A Manteca Indians Initiative।
এবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হতে চলেছে ‘আদ্যা’ কমিটির নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং প্রথম ম্যাগাজিন ‘আদ্যা-স্তুতি’। কমিউনিটির সদস্যদের লেখা ও ভাবনায় সমৃদ্ধ এই ম্যাগাজিন বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়কে তুলে ধরবে। এছাড়াও কমিউনিটির সদস্যদের নিয়ে তৈরি প্রথম মিউজিক ভিডিও প্রকাশ পাবে এবার।
এর কথাও লিখেছেন সদস্যরাই। স্থানীয় শিল্পীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এবার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ‘কোলাত্তম ড্যান্স’। সব মিলিয়ে পঞ্চম বর্ষে ‘আদ্যা’ কমিটির লক্ষ্য, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও মানুষের অংশগ্রহণকে আরও গভীরভাবে একসূত্রে বেঁধে এই দুর্গাপুজোকে আরও বৃহত্তর মিলনমেলায় পরিণত করা।