Loading...

ঘরছাড়া বাঙালির মাটির টানে মাদ্রিদে মা দুর্গা, ১৫টি পরিবারের হাত ধরে বিদেশের মাটিতে প্রথম পুজোর আবেগ

আজকাল ওয়েবডেস্ক: শরৎকালে আকাশের সাদা মেঘের তুলোর পাঁজি দেখলেই মনটা কেমন করে ওঠে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের ঠিক এই সময় যেখানেই থাকা হোক না কেন, ঘরের ফেরার টান প্রবল হয়ে ওঠে। মা দুর্গার আগমনে মুখোরিত হয়ে ওঠে বাংলা। কিন্তু যাঁরা ফিরতে পারেন না বা ঘরে ফেরার সুযোগ পান না, তাঁরা নিজেদের মতো করে মা দুর্গাকে কাছে ডেকে নেন। সেরকমই বাংলার দুর্গাপুজো এবার পৌঁছে গেল স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে। প্রবাসের মাটিতে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে প্রথমবারের মতো দুর্গাপুজোর আয়োজন করল মাদ্রিদের ভারতীয় সম্প্রদায়। এই উদ্যোগে এক ছাতার তলায় আসার সুযোগ পেলেন প্রবাসী ভারতীয়রা। দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে বিদেশের মাটিতেও তৈরি হল বাঙালির চেনা উৎসবের আবহ।

এর আগেও মাদ্রিদে দুর্গাপুজো হত। সেটির আয়োজন করত মাদ্রিদে বসবাসকারী বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষরা। কিন্তু ভারতীয়দের এই আয়োজন। আর প্রথম সবকিছুই সব সময় স্পেশ্যাল। মায়ের মণ্ডপসজ্জা থেকে শুরু করে সব আয়োজন, গোটাটাই করা হয়েছে নিজের হাতে। কাজের ফাঁকে সময় দিয়ে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে ‘উৎসব মাদ্রিদ’। দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, শিল্প ও সামাজিক মিলনমেলারও প্রতীক। সেই উৎসবকে স্পেনের মাটিতে তুলে ধরার উদ্যোগ প্রবাসীদের শিকড়ের সঙ্গে যোগাযোগ আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সামনে ভারতীয় সংস্কৃতিকে তুলে ধরার সুযোগও তৈরি করেছে ‘উৎসব মাদ্রিদ’।

ADVERTISEMENT

PUJO

আরও পড়ুন

এই আয়োজনের নেপথ্যে রয়েছে মাদ্রিদের ভারতীয় সম্প্রদায়ের উদ্যোগ। সংগঠনের সভাপতি প্রশান্ত সাহা, সাধারণ সম্পাদক দেবমাল্য রায় এবং কোষাধ্যক্ষ অর্ক চট্টোপাধ্যায় এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁদের লক্ষ্য, প্রবাসে থেকেও ভারতীয় উৎসবের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে ধরে রাখা এবং আগামী প্রজন্মের মধ্যে সেই পরিচিতিকে ছড়িয়ে দেওয়া।

দেবমাল্য বলেন, “আমরা সবাই এখানে প্রবাসী। এই সময় মাটি টানে। পুজোর সময় সকলেরই মনে হয় বাড়ি ফিরে যাই। আমরা যাঁরা অনেক দিন ধরে আছি, বন্ধুরা সবাই মিলে ভাবলাম কেন আমরা পুজো করতে পারব না। ব্যাস, মাত্র পাঁচ মাসেই সব আয়োজন করে ফেললাম।”

অর্ক বলেন, “পুজোর ভাবনা ছাড়া, সেটির পরিকল্পনা করা এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা আরও কঠিন বিষয়। মাদ্রিদের সিটি সেন্টারে মাত্র পাঁচ মাসে আয়োজন করতে পেরেছি। মাত্র ১৫টি পরিবার মিলে কমিটি তৈরি করলাম। তারপর ভাবনাচিন্তা করা হল যে, কী কী করা হবে। এরপরেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা হল। কুমোরটুলি থেকে মা আমাদের কাছে চলে এসেছেন। ১৫টি পরিবারের প্রতিটি সদস্য এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেছেন। নইলে এত বড় আয়োজন করা সম্ভব হত না।”

ভৌগোলিক দূরত্ব পেরিয়ে দুর্গাপুজো আজ বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। মাদ্রিদে ভারতীয় সম্প্রদায়েক প্রথমবারের এই উদ্যোগ সেটিরই আরও একটি উদাহরণ।

ADVERTISEMENT