আজকাল ওয়েবডেস্ক: বছরের সবচেয়ে বড় উৎসবের জন্য যখন কলকাতা সেজে উঠছে, তখন মধ্য কলকাতার তারা চাঁদ দত্ত স্ট্রিটের ‘ইয়ং বয়েজ ক্লাব’ তাদের ৫৭তম দুর্গাপূজায় দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাতে প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। এবারের পুজোর থিম হল ‘রাম রাজ্য’। শান্তি, ন্যায়বিচার, মর্যাদা, সম্প্রীতি এবং একটি আদর্শ সমাজের ধারণাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এ এক শৈল্পিক উপস্থাপনা।
সামাজিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ এবং দৃষ্টিনন্দন থিম উপহার দেওয়ার জন্য পরিচিত ইয়াং বয়েজ ক্লাব এবারও এমন একটি বিষয় বেছে নিয়েছে যা দুর্গাপূজার উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি মানুষের মনে চিন্তার খোরাক জোগাবে। ‘রাম রাজ্য’-এর মাধ্যমে আয়োজকরা এমন এক আদর্শ সমাজব্যবস্থাকে তুলে ধরতে চান, যেখানে অবিচারের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার, অপমানের বিরুদ্ধে মর্যাদা এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে ধর্মের জয় হয়। পাশাপাশি প্রকৃতির সঙ্গে গড়ে ওঠে এক নিবিড় সম্প্রীতি।
এবারের মণ্ডপের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল এর পরিবেশ-বান্ধব সাজসজ্জা। বিশিষ্ট শিল্পী দেবশঙ্কর মহেশের নকশায় তৈরি এই প্যান্ডেলটি পূর্ব মেদিনীপুরের কারিগররা প্রাকৃতিক উপাদান, যেমন- শুকনো পাতা, ফল, ফুল, বীজ এবং আঁশ দিয়ে গড়ে তুলছেন।
এই সব উপাদানের অভিনব ব্যবহার মণ্ডকে এক অনন্য প্রাকৃতিক রূপ দিয়েছে এবং প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতির যে বার্তা এই থিমে রয়েছে, তার সঙ্গেও চমৎকারভাবে মানিয়ে গিয়েছে। সাধারণ প্রাকৃতিক উপাদানগুলোকে এক অসাধারণ শৈল্পিক সৃষ্টিতে রূপ দিতে সূক্ষ্ম কারুকাজ ও বিস্তারিত অলঙ্করণের ব্যবহার করা হচ্ছে। দেবী দুর্গার প্রতিমাটি তৈরি করেছেন মেদিনীপুরের প্রখ্যাত ভাস্কর কুশধ্বজ বেরা।
পুজোর আগে ইয়ং বয়েজ ক্লাবের প্রধান সংগঠক শ্রী রাকেশ সিং বলেন, “দুর্গাপুজাো আমাদের কাছে সবসময়ই ভক্তি, সৃজনশীলতা এবং অর্থবহ সামাজিক বার্তা- এই তিনের মেলবন্ধন ঘটানোর একটি সুযোগ। ‘রাম রাজ্য’-এর মাধ্যমে আমরা একটি আদর্শ সমাজের নিজস্ব রূপ তুলে ধরছি, যেখানে মানুষ শান্তি, মর্যাদা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার সঙ্গে বসবাস করে। আমরা চাই দর্শনার্থীরা প্যান্ডেলের সৌন্দর্য উপভোগ করার পাশাপাশি এই থিমের অন্তর্নিহিত মূল্যবোধের সঙ্গেও একাত্ম হয়ে উঠুন।”
এই উপলক্ষে ‘ইয়ং বয়েজ ক্লাব’-এর যুব সভাপতি শ্রী বিক্রান্ত সিং বলেন, “এবারের মূল ভাবনা বা থিম এমন কিছু মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে যা মানুষকে একত্রিত করতে পারে। ‘রাম রাজ্য’ বলতে আমরা এমন এক সমাজের স্বপ্ন দেখি যা ন্যায়বিচার, দায়িত্ববোধ, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমরা এমনভাবে উপস্থাপনাটি সাজানোর চেষ্টা করেছি যাতে ইতিবাচকতা ও একাত্মতার বার্তা ছড়িয়ে পড়ে- যা দুর্গাপুজোর মূল নির্যাস।”
‘ইয়ং বয়েজ ক্লাব’-এর সহ-আয়োজক শ্রী বিনোদ সিং বলেন, “প্রতি বছরই আমাদের লক্ষ্য থাকে দর্শনার্থীদের জন্য স্মরণীয় কিছু উপহার দেওয়া, আর তা কেবল প্যান্ডেলের বিশাল আয়োজনের মাধ্যমেই নয়, বরং অর্থবহ কাহিনি-উপস্থাপনার মধ্য দিয়েও। এবারের থিম বা ধারণাকে পূর্ণতা দিতে প্রাকৃতিক উপাদান, ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প এবং আধুনিক আলোকসজ্জার এক অপূর্ব সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। আমাদের ৫৭তম দুর্গাপুজোর আয়োজনে শামিল হতে আমরা কলকাতার সর্বস্তরের মানুষকে স্বাগত জানানোর অপেক্ষায় আছি।”
মূল পুজোর আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগেই, অর্থাৎ ‘মহাপঞ্চমী’ তিথিতে দর্শনার্থীদের জন্য মণ্ডপ খুলে দেওয়া হবে। পুজো চলাকালীন ব্যাপক পরিসরে প্রসাদ বিতরণেরও পরিকল্পনা রয়েছে আয়োজকদের। উৎসব যাতে সর্বজনীন ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। মধ্য কলকাতার তারা চাঁদ দত্ত স্ট্রিটে (যা সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ ও রবীন্দ্র সরণিকে সংযুক্ত করেছে) অবস্থিত ‘ইয়ং বয়েজ ক্লাব’ এবারও বিশ্বাস, শিল্পকলা, সংস্কৃতি ও সামাজিক মূল্যবোধের এক অনন্য উৎসব হিসেবে নিজেদের ঐতিহ্য অব্যাহত রেখেছে।