Loading...

এখানে পুজো দিলেই ফিরে পাওয়া যায় দৃষ্টিশক্তি, মুর্শিদাবাদের দোহালিয়া কালী মন্দিরে দেবীকে পুজো করা হয় ব্যাঘ্ররূপে

আজকাল ওয়েবডেস্ক: মা কালীকে এখানে পুজো করা হয় ব্যাঘ্ররূপে। প্রচলিত আছে ব্যাঘ্ররূপী মায়ের কাছে এসে প্রার্থনা করলে দূর হয় অন্ধত্ব। মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দির দোহালিয়া কালী মন্দিরে আজও প্রচুর মানুষ আসেন নিজেদের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেতে।

জানা যায়, এককালে ময়ূরাক্ষী নদীর কাছেই অবস্থিত ছিল এই কালী মন্দির। কালের প্রভাবে এখন ময়ূরাক্ষী নদী অনেকটাই দূরে সরে গেছে। কিন্তু এই কালী মন্দিরের মাহাত্ম্য আজও সাধারণ মানুষের কাছে বহুল প্রচলিত।

ADVERTISEMENT

লোকশ্রুতি অনুযায়ী, আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগে রাজা লক্ষ্মণ সেনের রাজত্বকালের পূর্বে এই কালী মন্দিরে মায়ের আবির্ভাব ঘটে। সেই সময় এই এলাকা সম্পূর্ণ জঙ্গলে ঘেরা থাকায় সাধারণ মানুষ সহজে এখানে প্রবেশ করতে পারতেন না।

আরও পড়ুন

কথিত আছে, কোনও এক সাধক সারা দেশ ঘুরে এই ময়ূরাক্ষী নদীর তীরে পর্ণকুটির নির্মাণ করে সেখানে সাধনা করতে শুরু করেছিলেন। এরপর কোনও এক ঝড়-বৃষ্টির রাতে নদীতে স্নান করতে গিয়ে হঠাৎই অচৈতন্য হয়ে পড়েন তিনি। জ্ঞান ফিরলে বুঝতে পারেন তিনি তাঁর দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন।

সেই সময় তিনি উপলব্ধি করেন, একটি বাচ্চা মেয়ে তাঁর হাত ধরে তাঁকে উদ্ধার করে পর্ণকুটিরে নিয়ে এসেছে। কিন্তু কুটিরে ফিরে নিজের ওপর বিরক্ত হয়ে পড়েন ওই সাধক। কারণ তাঁর মনে হতে থাকে, এত কষ্ট করে সাধনা করেও তিনি অন্ধ হয়ে গেলেন।

এরপর তিনি তাঁর পর্ণকুটিরের কাছেই বটবৃক্ষ তলে বসে গভীর সাধনায় মগ্ন হন। বহুদিন পর তাঁর সাধনায় তুষ্ট হয়ে আশ্বিন মাসের শুক্লা চতুর্দশী তিথিতে সাধকের সামনে আবির্ভূত হন দেবী। তাঁর অন্ধত্ব দূর হয়। শুধু তাই নয়, তাঁকে বর প্রদান করতে চান দেবী।

তখন সেই সাধক মা কালীকে বলেন, সারা দেশ ঘুরে এত কষ্ট করে সাধনা করে তিনি মায়ের দর্শন করতে চেয়েছিলেন, আজ তাঁর সেই আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়েছে। এরপর তাঁর চাওয়ার আর কিছুই নেই। তবে এতদিন অন্ধত্ব ভোগ করে তার জ্বালা বুঝতে পেরেছিলেন।

তাই তিনি দেবীকে বলেন, মায়ের কাছে এসে কেউ যদি তাঁর অন্ধত্ব দূর হওয়ার প্রার্থনা করে, সেই আশা যেন পূর্ণ হয়। তারপর থেকেই দোহালিয়া কালী মন্দিরে কোনও অন্ধ ব্যক্তি এসে প্রার্থনা করলে তাঁর অন্ধত্ব দূর হয় বলে প্রচলিত।

দোহালিয়া কালী মন্দিরের প্রধান পুরোহিত বিভাস কুমার চট্টোপাধ্যায় ওরফে ত্যাগী মহারাজ বলেন, ‘মা কালী এখানে জ্যোতিরূপে পাতাল থেকে শিলাতে আবির্ভূত হন। মা যেখানে আবির্ভূত হয়েছিলেন, সেখানে একটি পুষ্করিণী সৃষ্টি হয়। মায়ের পুজো, ভোগ সবকিছুই করা হয় এই পুকুরের জল দিয়েই। এই পুকুরের জলের একটি বৈশিষ্ট্য হল, এই পুকুরের পুকুরের জলকে কখনওই তুলে শেষ করা যায় না। অনেকবার এর চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু সব চেষ্টাই বিফলে গিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনও অন্ধ ব্যক্তি যদি মায়ের কাছে পুজো দিয়ে এই পুষ্করিণীর জল চোখে দেয় এবং স্বপ্নাদেশে পাওয়া ওষুধ ব্যবহার করে, তাহলে তাঁর অন্ধত্ব দূর হয়।’ তিনি আরও জানান, ‘মা যখন সাধককে দেখা দিয়েছিলেন, তখন সেই সাধক একটি বিকট আওয়াজ শুনে বাঘ বলে মনে করেছিলেন। তাই এখানে দেবীকে ব্যাঘ্ররূপে পুজো করা হয়।’

ত্যাগী মহারাজ বলেন, ‘মায়ের ইচ্ছেতে এই অঞ্চলে আর কোথাও দক্ষিণা কালীর মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো করা হয় না। অনেকে মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাঁদের বংশ নাশ হয়। তারপর থেকে আর কেউ মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো করার ঔদ্ধত্য দেখায়নি।’ দীপান্বিতা অমাবস্যা তিথিতে এই মন্দিরে বড় করে অনুষ্ঠিত হয় কালীপুজো। প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটে দোহালিয়া গ্রামে এবং সকলের জন্যই থাকে ভোগের ব্যবস্থা।

ADVERTISEMENT