আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রথম বছরেই থিমে দেশাত্মবোধের ছোঁয়া। বন্দেমাতরম এর ১৫০ বছর পূর্তির আবহে ইতিহাসকে মণ্ডপে তুলে ধরছে ফুলবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব। বড় বাজেট নয়, পাড়ার আর্ট কলেজের পড়ুয়াদের শিল্পকর্মেই সেজে উঠেছে মণ্ডপ। পাশাপাশি, কুমারীপুজোয় হরিজন কন্যার আরাধনা থেকে নবমীর ভোগে কচি পাঁঠার আয়োজনএকাধিক বিশেষ উদ্যোগে নজর কাড়তে চাইছে এই পুজো।
মণ্ডপ তৈরি হয়েছে আনন্দমঠের ভগ্নপ্রায় মন্দিরের আদলে। প্রবেশপথ থেকেই দর্শনার্থীরা জানতে পারবেন বন্দেমাতরম রচনার ইতিহাস এবং আনন্দমঠের সঙ্গে এই গানের যোগসূত্র। অর্থাৎ, শুধু প্রতিমা দর্শন নয়, মণ্ডপ ঘুরে ইতিহাসের নানা দিক জানার সুযোগও থাকছে। প্রতিমায় অবশ্য থাকছে সাবেকিয়ানার ছোঁয়া। থিমের অভিনবত্বের পাশাপাশি চেনা দুর্গার ঐতিহ্যবাহী রূপকেও ধরে রাখতে চাইছেন উদ্যোক্তারা।
এই পুজোর প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর অর্চনা মজুমদারের সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়েছে ফুলবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবের। তিনি জানান, এলাকার আর্ট কলেজের পড়ুয়ারাই নিজেদের মেধা ও শৈল্পিক নৈপুণ্য দিয়ে মণ্ডপ সাজিয়ে তুলেছেন। বড় বাজেট না থাকলেও পুজোর সদস্যদের উদ্যোগ ও পরিশ্রমে তৈরি হয়েছে এই আয়োজন। স্থানীয় শিল্পীদের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে প্রথম বছরেই দর্শকদের সামনে একটি আলাদা ভাবনা তুলে ধরতে চাইছে পুজো কমিটি।
এ বারের পুজোয় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে সামাজিক বার্তাও। প্রচলিত রীতিতে অনেক ক্ষেত্রে ব্রাহ্মণ কন্যাকে কুমারী রূপে পুজো করা হলেও, ফুলবাগান সর্বজনীনে এ বার হরিজন কন্যাকে পুজো করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্চনা মজুমদার। তাঁর বক্তব্য, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সামাজিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে সকলের সমান মর্যাদার বার্তা দিতে চান তাঁরা।
পাশাপাশি, পুজোয় মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে বলে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর যে মন্তব্য করা হয়েছিল, সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নবমীর ভোগে কচি পাঁঠার আয়োজন করা হবে বলেও জানিয়েছেন পুজোর প্রধান উপদেষ্টা।