আজকাল ওয়েবডেস্ক: বর্ধমানের কোটালহাটের ঐতিহাসিক সাধক কমলাকান্ত কালীবাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অজস্র অলৌকিক লোককথা। প্রতি অমাবস্যায় সাধক কমলাকান্তের নিজ হাতে গড়া মাটির প্রতিমা পুজো, রাজাকে মায়ের জীবন্ত রূপের প্রমাণ দিতে পায়ে বেলকাঁটা ফুটিয়ে তাজা রক্ত ঝরানোর মতো রোমহর্ষক ঘটনা আজও এই মন্দিরের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করে রেখেছে। কার্তিক অমাবস্যার পুণ্য তিথিতে এই জাগ্রত সাধনক্ষেত্রে দূরদূরান্ত থেকে উপচে পড়েছে ভক্তদের জনসমুদ্র।
ইতিহাস ও অলৌকিক লোকগাথা
পূর্ব বর্ধমানের অম্বিকা কালনায় জন্ম নেওয়া কমলাকান্ত ভট্টাচার্য ছোটবেলায় গলসির চান্না গ্রামে মামাবাড়িতে বড় হন এবং সেখান থেকেই তাঁর সাধনা শুরু হয়। পরবর্তীতে তাঁর সাধনানুরাগের কথা জানতে পেরে বর্ধমানের তৎকালীন মহারাজ তেজচন্দ্র মহতাব তাঁকে বর্ধমানে নিয়ে আসেন। ১৮০৯ সালে কোটালহাটে একখণ্ড জমিতে খড়ের চালার ছোট মন্দির নির্মাণ করেন কমলাকান্ত। সেখানে পঞ্চমুণ্ডির আসন ও বেলগাছ প্রতিষ্ঠা করে তিনি সিদ্ধিলাভ করেন। মহারাজ তেজচন্দ্র তাঁকে নিজের গুরু মানতেন। কথিত আছে, মহাপ্রয়াণের সময় গঙ্গা তীরে যাওয়ার অসম্মতিতে সাধকের ভক্তি ও ইচ্ছায় মাটি ফুঁড়ে গঙ্গার জলধারা উঠে এসেছিল। আজও মন্দিরের সেই স্থানটি কুয়োর মতো করে বাঁধিয়ে রাখা হয়েছে এবং তাঁর সমাধির ওপরই নির্মিত হয়েছে বর্তমানের পাকা মন্দির।
বিশেষ পুজো ও রীতিনীতি
সময়ের সঙ্গে খড়ের চালার সেই সাধনক্ষেত্র বিশাল পাকা মন্দিরে রূপ নিয়েছে। ভক্তদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বর্তমানে এখানে সাড়ে ছ’ফুটের কষ্টিপাথরের কালী মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। সাধক কমলাকান্ত জীবদ্দশায় প্রতিদিন মাকে মাগুর মাছের ভোগ নিবেদন করতেন। আজও সেই শতাব্দীপ্রাচীন প্রথা মেনে কালীপুজোয় মাগুর মাছের পদ রেঁধে দেবীকে ভোগ দেওয়া হয়।
বছরের অন্যান্য অমাবস্যায় বৈদিক মতে পুজো হলেও কার্তিক মাসের দীপান্বিতা অমাবস্যায় পুজো হয় সম্পূর্ণ তন্ত্র মতে। অতীতে বলিদানের প্রচলন থাকলেও বর্তমানে মন্দিরে ছাগ বলি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
অমাবস্যার রাতে রাতভর আরাধনার পরের দিন মহাসমারোহে অন্নকূট অনুষ্ঠিত হয় এবং তার পরের দিন মন্দির প্রাঙ্গণে পালিত হয় ‘সাধক কমলাকান্ত দিবস’।