আজকাল ওয়েবডেস্ক: কখনও জলের ফোঁটার শব্দ, কখনও আলোর ঝলকানি, আবার কখনও চোখের সামনে মাথার উপর ভেসে উঠছে মহাদেবের তাণ্ডব নৃত্যের দৃশ্য। প্রযুক্তি ও শিল্পকলার অভিনব মেলবন্ধনে এবার দর্শনার্থীদের চমক দিচ্ছে বারাসতের শিমুলতলার শ্রীকৃষ্ণপুর সাংস্কৃতিক চক্র। পুজোর ৫০তম বর্ষে অর্থাৎ সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে একেবারে অন্যরকম ভাবনায় সাজানো হয়েছে মণ্ডপ। পুজোর থিমের নাম ‘অতল অনন্তম শক্তি বন্দনা’।
জলের ফোঁটার শব্দেই তাণ্ডব নৃত্য মহাদেবের! বারাসতের শিমুলতলায় সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে কালীপুজো ধুমধাম আয়োজন
ADVERTISEMENT
টাকি রোড সংলগ্ন এই পুজো মণ্ডপের বিশেষ আকর্ষণ জলের ফোঁটাকে কেন্দ্র করে তৈরি এক অভিনব শব্দশৈলী। বিশেষভাবে তৈরি ড্রামের উপর নির্দিষ্ট ছন্দে ফেলা হচ্ছে জলের ফোঁটা। আর সেই ফোঁটার আঘাতে তৈরি হচ্ছে বিচিত্র শব্দতরঙ্গ। সেই শব্দের ছন্দের সঙ্গে তাল মিলিয়েই বড় পর্দায় ফুটে উঠছে মহাদেবের তাণ্ডব নৃত্যের দৃশ্য। সঙ্গে থাকছে বিশেষ আলোকসজ্জা ও ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তির ব্যবহার। সব মিলিয়ে দর্শনার্থীদের সামনে এক অভিনব অভিজ্ঞতা তুলে ধরাই উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য।
মণ্ডপের বাইরের অংশ সাজানো হয়েছে আধুনিক মিউজিয়ামের আদলে। ভিতরে প্রবেশ করলেই আলো, শব্দ এবং দৃশ্যের এক অন্য জগৎ। দর্শনার্থীদের ভিড় সামাল দিতে একসঙ্গে প্রায় ৪০০ জনের মণ্ডপে প্রবেশের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই বিশেষ শিল্পভাবনার নেপথ্যে রয়েছেন বিশিষ্ট থিম শিল্পী ভবতোষ সুতার। তাঁর কাছে এই কাজ শুধুমাত্র শিল্পসৃষ্টি নয়, বরং আবেগের বিষয়।
অন্যদিকে, পুজোর প্রধান পৃষ্ঠপোষক বিজেপি নেতা সুবীর শীলের কথায়, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল বড় মাপের একটি পুজোর আয়োজন করা। সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়েছে।
ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে পুজোর উদ্বোধন। এসেছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। পুজোর ৫০ বছর পূর্তিকে স্মরণীয় করে রাখতে শ্রীকৃষ্ণপুর সাংস্কৃতিক চক্রের এই অভিনব উদ্যোগ এবার বারাসাতের কালীপুজোর অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে বলেই দাবি উদ্যোক্তাদের।
ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT
সবাই যা পড়ছেন
ADVERTISEMENT