আজকাল ওয়েবডেস্ক: পঞ্চাশ বছরে পা দিল মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের অন্যতম জনপ্রিয় স্যান্টাফোকিয়া কালীপুজো। বহরমপুর শহর তো বটেই, গোটা মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষের কাছে এই পুজো পরিচিত ‘অধীরের কালীপুজো’ নামেই। প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার প্রাক্তন কংগ্রেস দলনেতা অধীর চৌধুরীর এই পুজোকে ঘিরে প্রতি বছরই দর্শনার্থীদের মধ্যে থাকে বিশেষ উৎসাহ। তবে এবার পুজোর ৫০তম বর্ষ হওয়ায় আয়োজনেও থাকছে বাড়তি চমক।
৫০ বছরে অধীর চৌধুরীর কালীপুজো, ইতালির চার্চ ও লন্ডনের স্থাপত্যে সাজছে বহরমপুরের মণ্ডপ
ADVERTISEMENT
বহরমপুরের জর্জ কোর্ট মোড়ে জোরকদমে চলছে পুজোর প্রস্তুতি। এবারের মণ্ডপের থিমে থাকছে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মেলবন্ধন। ইতালির চার্চের আদলে তৈরি হচ্ছে প্যান্ডেল। পাশাপাশি মণ্ডপসজ্জায় ফুটিয়ে তোলা হবে লন্ডনের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপত্যকীর্তি। ফলে কালীপুজোর মণ্ডপে এবার এক অন্য ধরনের শিল্পভাবনার সাক্ষী থাকতে চলেছেন দর্শনার্থীরা।
আরও পড়ুন
অধীর চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ তথা কংগ্রেস কর্মী অরিন্দম দাস জানিয়েছেন, এবছর পুজো ৫০তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। সেই উপলক্ষে বিশেষভাবে সাজানো হচ্ছে মণ্ডপ। তাঁর কথায়, ইতালিয়ান চার্চের আদলে তৈরি হচ্ছে প্যান্ডেল। তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে লন্ডনের বিভিন্ন স্থাপত্যের নান্দনিক উপস্থাপনা। প্যান্ডেলের রূপকার দীপক কর্মকার। শিল্পকলা ও মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে রয়েছে ইউনিক ডেকোরেটর।
কালীপুজোর মণ্ডপের থিম হিসেবে ইতালির চার্চকে বেছে নেওয়ায় অনেকের মনেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, এই আয়োজনের মূল ভাবনা ধর্ম নয়, বরং শিল্প ও স্থাপত্যের বৈচিত্র্য। অরিন্দম দাসের কথায়, তাঁরা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেন না। অধীর চৌধুরীর আদর্শেই তাঁরা অনুপ্রাণিত। ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে না জড়িয়ে এই মণ্ডপকে শিল্পকলা হিসেবেই দেখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
আগামী ৭ নভেম্বর অধীর চৌধুরী নিজেই এই পুজোর উদ্বোধন করবেন। ৮ নভেম্বর কালীপুজোর দিন থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত টানা চার দিন দর্শনার্থীদের জন্য প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা থাকবে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলবে প্রসাদ বিতরণ। উদ্যোক্তাদের আশা, অন্যান্য বছরের মতো এবারও হাজার হাজার মানুষ পুজো দেখতে এবং প্রসাদ গ্রহণ করতে ভিড় জমাবেন।
অধীর চৌধুরী জানিয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে এই পুজোর প্রসাদ গ্রহণ করেন। তাঁদের এই ভালোবাসা ও অংশগ্রহণই উদ্যোক্তাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
অধীর চৌধুরীর স্ত্রী অতসী চৌধুরীর অনুপ্রেরণায় স্যান্টাফোকিয়ার এই পুজোর সূচনা হলেও বহরমপুরবাসীর কাছে এটি আজও ‘অধীরের কালীপুজো’ হিসেবেই পরিচিত। সাংসদ পদে না থাকলেও পুজোর জাঁকজমক ও জনপ্রিয়তায় যে ভাটা পড়েনি, তা প্রতি বছরই প্রমাণিত হয় দর্শনার্থীদের ভিড়ে।
বহরমপুরের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও বহু মানুষ এই পুজো দেখতে জর্জ কোর্ট মোড়ে হাজির হন। এবার পুজোর সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে সেই উন্মাদনা আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন উদ্যোক্তারা। মণ্ডপ তৈরির কাজ প্রায় শেষ। এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত শিল্পী ও আয়োজকরা। দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT
সবাই যা পড়ছেন
ADVERTISEMENT