Loading...

'এখন মানুষের ধৈর্য নেই', রিল নিয়ে দুঃখ নয় বরং আশাবাদী শুভমিতা, কোন সম্ভাবনার কথা বললেন?

  • সায়নী মুখার্জি

  • ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৩৯

'শিশিরে শিশিরে শারদ আকাশে ভোরের আগমনী', কিংবা 'দেখেছ কি তাকে' যে সুরেলা কন্ঠ পুজোর সময় ভেসে আসে তিনি শুভমিতা ব্যানার্জি৷ তাঁর কাছে পুজোর গন্ধ নিয়ে আসে ভোরের শিউলি ফুল৷ আর মহালয়ায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের জলদগম্ভীর কণ্ঠে মহালয়া শোনামাত্রই মনে হয় পুজো এসে গেছে৷

ছোটবেলার পুজোর স্মৃতিতে জড়িয়ে রয়েছে দাদুর বাড়িতে যাওয়ার আনন্দ। পুজোর সময় মামা-মাসিরা দল বেঁধে তাঁদের বাড়িতে আসতেন। সেখান থেকে সবাই মিলে যাওয়া হত দাদুর বাড়ি। সেই দিনগুলোর আনন্দের সঙ্গে আজকের কোনও আনন্দেরই তুলনা চলে না বলে মনে করেন তিনি। নতুন জামাকাপড়, নতুন জুতো পরে রিকশায় চড়ে ঠাকুর দেখতে যাওয়ার মধ্যে যে সরল আনন্দ ছিল, তা আজকের পুজোয় কোথাও যেন হারিয়ে গিয়েছে। এখন আনন্দ করার সুযোগ অনেক বেশি, কিন্তু সেই আনন্দের অনুভূতিটা আর আগের মতো নেই বলেই মনে হয় শুভমিতার৷

ADVERTISEMENT

পুজোয় মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরার চেয়ে এখন পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে বসে আড্ডা দিতেই বেশি ভাল লাগে শুভমিতার। তবে সেই সুযোগ সব বছর আসে না। গত প্রায় ২৫ বছরে হাতে গোনা দু’-চারবার পুজোর সময় কলকাতায় থাকা হয়েছে তাঁর। কলকাতায় থাকলে এক-এক দিন এক-একজন বন্ধুর বাড়িতে বসে আড্ডা, খাওয়াদাওয়া—এভাবেই কাটে উৎসবের দিনগুলো। তাঁর কাছে সেটাও কম আনন্দের নয়।

আরও পড়ুন

শুভমিতার পুজোর স্মৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে গান। বিশেষ করে পুজোর অ্যালবাম প্রকাশের সেই পুরনো রীতি। একটা সময় সারা বছর অপেক্ষা থাকত, পুজোয় কোন শিল্পীর কী গান প্রকাশিত হবে। নতুন অ্যালবাম কিনে বারবার শোনার মধ্যে ছিল আলাদা আনন্দ। এখন আর নিয়মিত সেইভাবে পুজোর অ্যালবাম প্রকাশিত হয় না। ইউটিউব, রিলস এবং স্ট্রিমিংয়ের যুগে গান শোনার অভ্যাসও বদলে গিয়েছে। তাঁর মতে, ক্যাসেট বা সিডির সময় গান শোনার জন্য মানুষের যে ধৈর্য ছিল, তা এখন অনেকটাই কমেছে। পুরো গান শোনার বদলে দেড় মিনিটের রিলে গানের ঝলক শুনতেই বেশি আগ্রহী অনেকেই। তবে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনকে মেনে নেওয়াই উচিত। বরং শিল্পীদের এমন গান তৈরি করতে হবে, যার সামান্য অংশ শোনার পরেও শ্রোতাদের সম্পূর্ণ গানটি শোনার ইচ্ছে জাগে।

নিজের গান প্রথম পুজোর মণ্ডপে বাজতে শোনার অভিজ্ঞতাও আজও বিশেষভাবে মনে রয়েছে তাঁর। সেই সময় পুজোর প্যান্ডেলে তোমার কাছে ফাগুন চেয়েছে কৃষ্ণচূড়া, বল মন সুখ বল কিংবা যদি বন্ধু হও বাজতেই থাকত৷ শুভমিতার কথায়, "সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। যে শিল্পীদের গান এতদিন বিভিন্ন মণ্ডপে বাজতে শুনতাম, তাঁদেরই দলে যেন নিজের জায়গা হয়েছে।" প্রথমবার নিজের গান প্যান্ডেলে বাজতে শুনে এমনটাই মনে হয়েছিল শুভমিতার। যদিও এই আবেগতাড়িত স্বীকারোক্তি কিছুটা ধৃষ্টতা বলেও মনে হয়েছে শিল্পীর, তাই নিজের মনের প্রথম অনুভূতির কথা বলার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনাও করেছেন । পুজোর গান বলতে তাঁর মনে পড়ে বাংলা ও মুম্বইয়ের শিল্পীদের জনপ্রিয় গান, এমনকি পুজোয় মুক্তি পাওয়া ছবির গানও।

গানের পাশাপাশি পুজোর খাওয়াদাওয়াতেও রয়েছে তাঁর বিশেষ পছন্দ। এক দিন হলুদ বাসন্তী পোলাওয়ের সঙ্গে মাংস চাই-ই চাই। অন্য দিন পাতে থাকতে হবে লুচি, আলুরদম আর ছোলার ডাল। তবে ছোটবেলায় যেমন দুষ্টুমি করে পুজো কাটানোর গল্প অনেকেরই থাকে, তেমন কোনও বিশেষ স্মৃতি শুভমিতার নেই। নিজেকে শান্ত ও ভীতু প্রকৃতির মানুষ বলেই বর্ণনা করেন তিনি।

এখন পুজোর বেশিরভাগ সময়ই কেটে যায় অনুষ্ঠান করতে করতে। ফলে নিয়ম করে সন্ধিপুজো দেখতে যাওয়া কিংবা ভোগ খাওয়া সব সময় সম্ভব হয় না। পুজোর সাজেও বিশেষ কোনও পরিবর্তন নেই তাঁর। সারা বছর যে ধরনের সাজে দেখা যায় তাঁকে, পুজোতেও সেই সাজই পছন্দ। জাঁকজমকের চেয়ে শুভমিতার পুজোর গল্পে তাই বেশি করে ফিরে আসে ছোটবেলার সারল্য, পরিবারের সঙ্গে কাটানো সময় আর স্বর্ণযুগের বাংলা গানের সেই পুরনো দিনগুলোর মায়া।

ADVERTISEMENT