আজকাল ওয়েবডেস্ক: সময় বদলেছে, বদলেছে জনপদের চেহারা। কিন্তু বদলায়নি ৪০০ বছরের পুরনো ঐতিহ্য। মালদার গোবরজনায় নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হয় ঐতিহাসিক কালীপুজো। পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দেবী চৌধুরানী ও ভবানী পাঠকের নাম। তবে শুধু ইতিহাস নয়, এই পুজোর সবচেয়ে বড় পরিচয় হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি। বছরের পর বছর ধরে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে মেতে ওঠেন এই আরাধনায়।
মালদার পুখুরিয়া থানার আড়াইডাঙা এলাকার গোবরজনার এই কালীপুজো ঘিরে রয়েছে নানা জনশ্রুতি। কথিত আছে, প্রায় ৪০০ বছর আগে কালিন্দ্রী নদী দিয়ে পূর্ববঙ্গে ডাকাতি করতে যাচ্ছিলেন ডাকাত সর্দার ভবানী পাঠক। পথে নদীর ধারে একটি আমবাগানে বজরা থামিয়ে বিশ্রাম নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেখানেই শিবির তৈরি করে রাত কাটাচ্ছিলেন। সেই রাতে স্বপ্নাদেশ পান ভবানী পাঠক। স্বপ্নে দেবী কালী তাঁকে ওই আমবাগানেই মন্দির প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করার নির্দেশ দেয়।
এরপর কালিন্দ্রী নদীর মাটি ও গোবর দিয়ে দেবীর মূর্তি তৈরি করে পুজো শুরু করেন তিনি। সেই থেকেই এই পুজোর প্রচলন বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস। দীর্ঘদিন ডাকাতরাই এই পুজোর দায়িত্ব সামলাতেন। এমনকি মুসলিম শাসনকাল এবং ব্রিটিশ আমলেও পুজোর ধারা বজায় ছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। পরবর্তী সময়ে এলাকায় জনবসতি গড়ে উঠলে গ্রামবাসী এবং স্থানীয় চৌধুরী পরিবার এই পুজোর দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন।
পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা সৌমেন চৌধুরী জানান, প্রাচীন রীতি মেনেই আজও কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে দেবীর আরাধনা হয়। পুজোয় ছাগ ও মহিষ বলির প্রথাও রয়েছে। একসময় মহিষ বলি দেওয়া হত। বর্তমানে পুজোকে কেন্দ্র করে বহু মানুষের সমাগম হয়। বাতাসা ও অন্নভোগ নিবেদন করা হয় দেবীকে। কালীপুজোর দিন পাঁচ হাজারেরও বেশি ছাগ বলি হয় বলে উদ্যোক্তাদের দাবি।
তবে এই পুজোর সূচনা নিয়ে অন্য একটি মতও প্রচলিত রয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের বিশ্বাস, একসময় গোবরজোনা ও সংলগ্ন এলাকায় কলেরার ভয়াবহ প্রকোপ দেখা দিয়েছিল। মহামারির হাত থেকে গ্রামবাসীদের রক্ষা করতেই দেবী কালীর আরাধনা শুরু হয়েছিল। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা এই আয়োজন তাই শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, মালদার সামাজিক সম্প্রীতিরও এক অনন্য নজির।