আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে নিয়মনিষ্ঠা ও ধর্মীয় রীতি মেনে সমারোহে পুজো হবে বালুরঘাটের অধিষ্ঠাত্রী দেবী বুড়ামা কালীর। প্রায় ৪০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন এই পুজোকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে মন্দির চত্বরে প্রস্তুতি। তন্ত্রমতে পুজোর পাশাপাশি থাকছে পাঁঠাবলির প্রথাও। পুজোর দিন দর্শনার্থীদের জন্য অন্নভোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি পুজোর পরের দিন সকালে ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হবে আমিষ ভোগ।
বুড়ামা কালীর পুজোকে ঘিরে রয়েছে নানা জনশ্রুতি ও ইতিহাস। কথিত আছে, একসময় কলকাতার রানী রাসমণি এই মন্দিরে পুজো দিতে আসতেন। বজরায় চেপে আত্রেয়ী নদী থেকে জল নিয়ে এসে মায়ের পুজো দিয়ে আবার কলকাতায় ফিরে যেতেন তিনি। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, একসময় সন্ধ্যার পর মন্দির সংলগ্ন এলাকা থেকে অপরূপ ফুলের সুগন্ধ ভেসে আসত। অথচ কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছিল ঘন জঙ্গল, সেখানে কোনও ফুলের গাছপালা ছিল না বলেই শোনা যায়। এমনকী রাতের অন্ধকারে নূপুরের শব্দ শোনার কথাও প্রচলিত রয়েছে। যদিও বর্তমান প্রজন্মের কাছে এই কাহিনিগুলি অনেকটাই লোককথা, তবুও বুড়ামা কালীর প্রতি জেলাবাসীর বিশ্বাস ও ভক্তিতে কোনও খামতি নেই।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, কয়েকশো বছর আগে বর্তমান মন্দিরের পাশ দিয়েই বয়ে যেত আত্রেয়ী নদী। নদীর তীরে একসময় ঘন জঙ্গলে ঘেরা ছিল গোটা এলাকা। কথিত আছে, আত্রেয়ী নদীর ধারে কোনও এক সময় স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেসে ওঠে বুড়ামা কালীর বিগ্রহ। এক তান্ত্রিক সেই বিগ্রহ উদ্ধার করে নিয়ে এসে ধর্মীয় রীতি মেনে পুজো শুরু করেন। সেই থেকেই এই পুজোর প্রচলন বলে বিশ্বাস স্থানীয়দের। প্রথমদিকে টিনের ঘেরা দেওয়া ছোট পরিসরে পুজো শুরু হলেও বর্তমানে সেখানে গড়ে উঠেছে বিশাল মন্দির। কালের নিয়মে আত্রেয়ী নদীও মন্দির থেকে অনেকটা পশ্চিম দিকে সরে গিয়েছে।
শতাব্দী প্রাচীন এই পুজোর সঠিক বয়স কত, তা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য না থাকলেও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে এই ঐতিহ্য। পুজোর দিন সোনা ও রুপোর অলঙ্কারে সুসজ্জিত করা হয় দেবীকে। পাঁঠাবলির পাশাপাশি এখনও প্রচলিত রয়েছে শোল মাছ বলির রীতি। জনশ্রুতি রয়েছে, অতীতে এই পুজোয় প্রায় ২০ কেজি ওজনের শোল মাছ বলি দেওয়া হত।
প্রতি বছর দীপান্বিতা অমাবস্যায় বুড়ামা কালীর পুজোকে কেন্দ্র করে মন্দির চত্বরে কয়েক হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম হয়। শুধু বালুরঘাট শহরই নয়, ডাঙ্গি, মালঞ্চা, চকভৃগু, হোসেনপুর-সহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রাম থেকেও ভক্তরা মন্দিরে আসেন। দক্ষিণ দিনাজপুরের পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুর ও মালদা জেলা থেকেও বহু মানুষ মায়ের দর্শনে ভিড় জমান। সব মিলিয়ে দীপান্বিতা অমাবস্যাকে কেন্দ্র করে বুড়ামা কালীর মন্দিরে এখন সাজো সাজো রব।