মহালয়াতেই কেন সম্প্রচার হয় মহিষাসুরমর্দিনী? কোন নিবিড় যোগ দুইয়ের
1/11
মহালয়ার ভোর মানেই ঠিক ভোর ৪ টে নাগাদ রেডিওতে বেজে উঠবে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ। একের পর এক বেজে চলে 'সিংহস্থা শশীশেখর', 'বাজল তোমার আলোর বেণু', ইত্যাদি। অনেকে তো মহালয়া এবং 'মহিষাসুরমর্দিনী' দু'টোকেই এক বলে মনে করেন। কিন্তু সেটা তো নয়, কিন্তু তাও কেন মহালয়ার দিনই সম্প্রচারিত হয় এই বিশেষ প্রভাতী অনুষ্ঠান? অন্য কোনও দিনে নয় কেন? ছবি- সংগৃহীত
2/11
আকাশবাণীর বিশেষ প্রভাতী অনুষ্ঠান হল 'মহিষাসুরমর্দিনী'। ১৯৩২ সাল থেকে শুরু হয় এই বিশেষ অনুষ্ঠানের পথচলা। আগে সরাসরি সম্প্রচার করা হতো এই অনুষ্ঠান। কিন্তু ১৯৭২ সালের পর থেকে সেটা আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তাই বর্তমানে পুরনো রেকর্ড বাজানো হয়। ছবি- সংগৃহীত
ADVERTISEMENT
3/11
তবে এই বিষয়ে জানিয়ে রাখা ভাল, ১৯৪৬ সালের দাঙ্গার সময় বন্ধ ছিল 'মহিষাসুরমর্দিনী'র সম্প্রচার। ওই একটাই বছর বন্ধ ছিল এই বিশেষ অনুষ্ঠানের সম্প্রচার। অন্যদিকে ১৯৬৩ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত প্রতি বছর লাইভ অনুষ্ঠান হতো না। আগে থেকে রেকর্ড করে রাখা প্রোগ্রাম চালানো হতো। ছবি- সংগৃহীত
4/11
রিহার্সাল দিয়ে আগে থেকে রেকর্ড করা হতো, সেটাই মহালয়ার দিন চালানো হয়। ১৯৬৩ থেকে ১৯৭২, এই ১০ বছরের মধ্যে মোট ৬ বার রেকর্ডিং হয়েছিল 'মহিষাসুরমর্দিনী'। ছবি- সংগৃহীত
ADVERTISEMENT
5/11
আপামর বাঙালির কাছে মহালয়ার ভোর মানেই যেমন একদিকে পিতৃপক্ষের অবসান, দেবীপক্ষের সূচনা, তেমনই 'মহিষাসুরমর্দিনী'। কিন্তু জানেন কি প্রথমে মোটেই মহালয়ার দিন সম্প্রচারিত হয়নি এই বিশেষ অনুষ্ঠান। তাহলে? ছবি- সংগৃহীত
6/11
১৯৩২ সালে প্রথমবার 'মহিষাসুরমর্দিনী' গীতিআলেখ্য সম্প্রচারিত হয়। তবে সেটা কিন্তু মহালয়ার দিন নয়, ষষ্ঠীর দিন। তবে তারও আগে অন্য একটি বিশেষ প্রভাতী অনুষ্ঠান সম্প্রচার হয়েছিল। কী সেটা? ছবি- সংগৃহীত
ADVERTISEMENT
7/11
'মহিষাসুরমর্দিনী' যে বছর প্রথম সম্প্রচার হয় তার আগের বছর বাণীকুমার ওরফে বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য 'শ্রীশ্রীচণ্ডী' বিষয় নিয়ে 'বসন্তেশ্বরী' নামক একটি কাব্য তৈরি করেন। সেই বছর চৈত্র মাসে অনুষ্ঠিত হওয়া বাসন্তী পুজোর সময় সেই অনুষ্ঠান সম্প্রচার হয়। ছবি- সংগৃহীত
8/11
এই অনুষ্ঠানে সুর দিয়েছিলেন হরিশচন্দ্র বালী। সেই অনুষ্ঠানে ছিলেন বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্র এবং বাণীকুমার। রাইচাঁদ বড়াল সঙ্গীত পরিচালন করেন। এরপরই তাঁরা ঠিক করেন দুর্গাপুজোর সময় এমনই একটি অনুষ্ঠান করবেন। ছবি- সংগৃহীত
ADVERTISEMENT
9/11
ব্যস, যেমন ভাবা তেমন কাজ। শুরু হয় প্রস্তুতি। তবে প্রথম বছর অর্থাৎ ১৯৩২ সালে ষষ্ঠীর দিন যে প্রভাতী অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়েছিল সেটার নাম ছিল 'প্রত্যুষ প্রোগ্রাম'। ১৯৩৩ সালে সেই অনুষ্ঠানের নাম দেওয়া হয় 'প্রভাতী অনুষ্ঠান'। ১৯৩৬ সালে আবারও নাম বদলায়। রাখা হয় 'মহিষাসুর বধ' নাম। অবশেষে ১৯৩৭ সাল থেকে 'মহিষাসুরমর্দিনী' নামে সম্প্রচার শুরু হয়। ছবি- সংগৃহীত
10/11
১৯৩২ এবং ৩৩ সালে ষষ্ঠীর দিন সম্প্রচারিত হয় এই বিশেষ বেতার অনুষ্ঠান। এরপর থেকে মহালয়াতেই প্রতি বছর সম্প্রচারিত হতে থাকে 'মহিষাসুরমর্দিনী'। ফলে মহালয়া এবং 'মহিষাসুরমর্দিনী', এই দুইয়ের মধ্যে সেই অর্থে কোনও যোগ না থেকেও নিবিড় যোগ আছে। আর সেটা হল বাঙালির আবেগ। এত বছরের 'রিচুয়াল' এখন বাঙালির সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে গিয়েছে। ছবি- সংগৃহীত
ADVERTISEMENT
11/11
এই অনুষ্ঠান বাঙালির এতটাই কাছের যে তাতে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের জায়গাতে তাঁরা উত্তম কুমারকে পর্যন্ত মেনে নিতে পারেনি। ফলে এখন মহালয়া এবং 'মহিষাসুরমর্দিনী' একাকার হয়ে গিয়েছে।ছবি- সংগৃহীত
ADVERTISEMENT
সবাই যা পড়ছেন
ADVERTISEMENT