পুজোর ছুটি মানেই নতুন জামাকাপড়, প্যান্ডেল হপিং আর খাওয়াদাওয়া। কিন্তু প্রতি বছর একই জায়গায় ঘুরতে গিয়ে যদি একঘেয়েমি চলে আসে, তা হলে এবারের পুজোয় প্ল্যান বদলাতে পারেন। পাহাড়ে যাওয়ার ইচ্ছে রয়েছে, কিন্তু লম্বা ছুটি নেই? তা হলে একদিনের জন্য চলে যেতে পারেন বাঁকুড়ার তপোবন পাহাড়ে।
নিরিবিলি পরিবেশ, সবুজে ঘেরা পাহাড় আর মন্দির—সব মিলিয়ে পুজোর ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে বা বন্ধুদের নিয়ে সময় কাটানোর জন্য বেশ অন্যরকম একটি ঠিকানা হতে পারে এই জায়গা।
বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি থানার কাপিষ্টা গ্রামের কাছে এই পাহাড়টি স্থানীয়ভাবে কোরো পাহাড় নামেও পরিচিত। শহরের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে প্রকৃতির মধ্যে কয়েক ঘণ্টা কাটাতে চাইলে জায়গাটি পছন্দ হতে পারে। বড় বড় গাছের ছায়া, পাহাড়ি পরিবেশ আর তুলনামূলক নিরিবিলি আবহ, পুজোর ভিড়ের মাঝে একটু শান্তি খোঁজা পর্যটকদের জন্য এটাই হতে পারে বাড়তি আকর্ষণ।
তপোবন পাহাড়ে কী দেখবেন?
এই জায়গার অন্যতম আকর্ষণ পাহাড়ের উপরে ওঠার সিঁড়ি। নীচ থেকে তাকালে দীর্ঘ সিঁড়ির পথটাই প্রথমে নজর কাড়বে। ধীরে ধীরে সেই সিঁড়ি পেরিয়ে উপরে উঠলে পৌঁছে যাবেন পাহাড়ের চূড়ায়। সেখানে রয়েছে অষ্টভুজা মা পার্বতীর মন্দির। পুজোর সময়ে মন্দিরে প্রার্থনা করার পাশাপাশি পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে চারপাশের সবুজ প্রকৃতিও উপভোগ করতে পারবেন।
শুধু দর্শন নয়, পাহাড়ের চূড়ায় কিছুটা সময় বসে গল্প-আড্ডা কিংবা ছবি তোলার সুযোগও রয়েছে। বিশেষ করে ভিড় থেকে দূরে শান্ত পরিবেশে কয়েক ঘণ্টা কাটাতে চাইলে এই জায়গার নিজস্ব একটা আকর্ষণ রয়েছে। তপোবনের আশ্রম এলাকাতেও রয়েছে শান্ত, সবুজ পরিবেশ।
কীভাবে যাবেন?
বাঁকুড়া শহর থেকে অমরকাননের দিকে যেতে হবে। পথে একটি ছোট সেতু পার করে প্রায় এক কিলোমিটার এগোলেই মহিমানন্দ তপোবন আশ্রমের হোর্ডিং চোখে পড়বে। সেখান থেকে নির্দেশ মাফিক রাস্তা ধরে এগোলেই পৌঁছে যাবেন তপোবন শাখা উত্তম আশ্রমের কাছে। ব্যক্তিগত গাড়ি বা বাইকে গেলে যাতায়াত তুলনামূলক সহজ। স্থানীয় পরিবহণে গেলে কাপিষ্টা ও তপোবন আশ্রমের রাস্তা আগে স্থানীয়দের কাছ থেকে জেনে নেওয়া ভাল।
পুজোয় লম্বা ছুটি না পেলেও তাই মন খারাপের কারণ নেই। একদিনের ছুটিতে শহরের কোলাহল ছেড়ে পাহাড়, সবুজ আর নিরিবিলি পরিবেশের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা কাটিয়ে আসতে পারেন তপোবন পাহাড়ে। তবে যাওয়ার আগে স্থানীয় রাস্তার পরিস্থিতি ও যাতায়াতের ব্যবস্থা জেনে নিলে ভ্রমণ আরও স্বচ্ছন্দ হবে।