Loading...

পুজোর এবার ঠিকানা হোক ‘মেঘের বাড়ি’, পাহাড়, কমলাবাগান আর ঘরোয়া আতিথেয়তায় মাত্র ১২০০ টাকায় স্বপ্নের ছুটি

আজকাল ওয়েবডেস্ক: শহরের কোলাহল থেকে দূরে, পাহাড়ের কোলে মেঘের আনাগোনা। চারপাশে সবুজের সমারোহ, নিরিবিলি পরিবেশ আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য। পুজোর ছুটিতে মন ও শরীরকে চাঙ্গা করতে এবার ঘুরে আসুন উত্তরবঙ্গের অপরূপ সুন্দর পাহাড়ি গ্রাম সিটং থেকে। যেখানে স্বল্প খরচেই মিলবে আরামদায়ক থাকা, চারবেলা সুস্বাদু বাঙালি খাবার আর একরাশ প্রশান্তি। সারা বছরের কাজের ব্যস্ততা, শহরের যানজট আর একঘেয়ে জীবন থেকে কয়েকটা দিনের মুক্তি কে না চান! আর সেই মুক্তির স্বাদ যদি মেলে পাহাড়ের কোলে, মেঘের সঙ্গে মিতালি করে, তাহলে তো কথাই নেই। পুজোর ছুটিতে চিরাচরিত দার্জিলিংয়ের ভিড় এড়িয়ে এবার ঘুরে আসুন এক অন্য দার্জিলিংয়ে। যেখানে পর্যটকদের কোলাহলের বদলে সঙ্গী হবে পাহাড়ি নিস্তব্ধতা, মেঘে ঢাকা পথ আর প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য। সেই স্বপ্নের ঠিকানার নাম ‘মেঘের বাড়ি’—সিটং।

কীভাবে পৌঁছবেন মেঘের দেশে?

ADVERTISEMENT

কলকাতা থেকে সিটং পৌঁছনোর একাধিক সহজ পথ রয়েছে। আকাশপথে যাঁরা আসবেন, তাঁদের প্রথমে পৌঁছতে হবে বাগডোগরা বিমানবন্দরে। সেখান থেকে গাড়িতে ঘণ্টা তিনেকের পথ পেরোলেই পৌঁছে যাওয়া যাবে মেঘের বাড়িতে। অন্যদিকে, ট্রেনে এলে নামতে হবে নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি) স্টেশনে। সেখান থেকেও গাড়িতে প্রায় তিন ঘণ্টার যাত্রা। আর যাঁরা বাসে আসতে চান, তাঁদের জন্য রয়েছে কলকাতা থেকে শিলিগুড়ির তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাস পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি বাস পরিষেবা। শিলিগুড়ি থেকে ছোট গাড়ি ভাড়া করে অহলধারার পথ ধরে সহজেই পৌঁছে যেতে পারবেন সিটংয়ে।

আরও পড়ুন

অর্থাৎ যাতায়াতের ঝক্কি সামলে খুব বেশি সময় নষ্ট না করেই প্রকৃতির কোলে কয়েকটা দিন কাটানোর সুযোগ।

কী কী ব্যবস্থা আপনার জন্য?

থাকা-খাওয়া থেকে আরাম সবেতেই ঘরোয়া আতিথেয়তা। পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে অনেকেরই চিন্তা থাকে থাকা-খাওয়া নিয়ে। তবে সিটংয়ের মেঘের বাড়িতে সেই চিন্তার অবকাশ নেই। পর্যটকদের জন্য রয়েছে সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক থাকার ব্যবস্থা। প্রতিটি ঘরের সঙ্গে রয়েছে নিজস্ব ব্যালকনি, যেখান থেকে উপভোগ করা যায় পাহাড়ের মনোরম দৃশ্য। সকালে ঘুম ভাঙতেই চোখের সামনে মেঘের আনাগোনা আর চারপাশে সবুজ পাহাড় ছুটির দিনগুলোকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে যথেষ্ট।

শুধু থাকার ব্যবস্থাই নয়, খাবারের আয়োজনেও রয়েছে বিশেষ আকর্ষণ। একবেলা বা দু’বেলা নয়, পর্যটকদের জন্য থাকছে চারবেলা সুস্বাদু ঘরোয়া বাঙালি খাবার। পাহাড়ি পরিবেশে ঘরের স্বাদে রান্না করা খাবার যে ভ্রমণের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়, তা বলাই বাহুল্য।এছাড়াও ঠান্ডার কথা মাথায় রেখে প্রতিটি ঘরে রয়েছে গিজারের সুবিধা। সঙ্গে ইলেকট্রিক কেটলি, গাড়ি রাখার পার্কিং ব্যবস্থা এবং শান্ত, নিরিবিলি পরিবেশ। পরিবার, বন্ধু-বান্ধব কিংবা প্রিয়জনকে নিয়ে নিশ্চিন্তে ছুটি কাটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার আয়োজন রয়েছে এখানে।

মাত্র ২০-৩০ মিনিটের দূরত্বে প্রকৃতির একাধিক বিস্ময়!

সিটংয়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল এর চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। মেঘের বাড়িতে থেকে খুব বেশি দূরে না গিয়েই ঘুরে দেখা যায় একাধিক মনোরম দর্শনীয় স্থান। মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিটের গাড়ি যাত্রায় পৌঁছে যাওয়া যায় আশপাশের বিভিন্ন ভিউ পয়েন্ট ও পর্যটনকেন্দ্রে। যেমন ধরুন,

-

১. অহলধারা ভিউ পয়েন্ট: পাহাড়ের অপরূপ দৃশ্য, মেঘের খেলা আর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করার আদর্শ জায়গা।

২. লাটপাঞ্চার: ঘন সবুজ বন, পাহাড়ি পথ আর নির্জন পরিবেশের জন্য প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।

৩. নামথিং পোখরি: পাহাড়ের কোলে অবস্থিত এই জলাশয় ও তার চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

৪. সিটংয়ের বিখ্যাত কমলাবাগান: পাহাড়ের ঢালে সারি সারি কমলালেবুর গাছ। বিশেষ করে কমলার মরশুমে এই বাগানগুলির সৌন্দর্য হয়ে ওঠে অতুলনীয়।

৫. যোগীঘাট: পাহাড়ি নদী, সেতু আর প্রাকৃতিক পরিবেশের মেলবন্ধনে এক মনোরম পর্যটনস্থল।

৬. মংপু: পাহাড়ের সৌন্দর্যের পাশাপাশি ইতিহাস ও সাহিত্যের টান অনুভব করার এক বিশেষ ঠিকানা।

৭. মহলদিরাম টি গার্ডেন: সবুজ চা-বাগানের বিস্তীর্ণ প্রান্তর আর পাহাড়ি আবহে কাটিয়ে দেওয়া যায় বেশ কিছু মনোরম মুহূর্ত।

এছাড়াও রয়েছে সিটং ভিলেজ, বিভিন্ন ভিউ পয়েন্ট, পাহাড়ি ঝরনা এবং প্রকৃতির কোলে লুকিয়ে থাকা একাধিক অচেনা সৌন্দর্যের ঠিকানা। প্রতিটি জায়গাই যেন নতুন করে চিনিয়ে দেয় পাহাড়কে।সিটংয়ের সৌন্দর্য কেবল দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এখানকার আসল আকর্ষণ লুকিয়ে রয়েছে প্রতিদিনের ছোট ছোট মুহূর্তে। ভোরের স্নিগ্ধ হাওয়া, পাহাড়ের গায়ে মেঘের আনাগোনা, সবুজ চা-বাগানের বুক চিরে চলে যাওয়া আঁকাবাঁকা রাস্তা, কমলালেবুর বাগানের মায়াবী পরিবেশ আর পাখির ডাক সব মিলিয়ে সিটং যেন প্রকৃতির হাতে আঁকা এক জীবন্ত ক্যানভাস। যাঁরা ভিড়ভাট্টা থেকে দূরে নিরিবিলিতে সময় কাটাতে ভালোবাসেন, যাঁরা পাহাড়কে শুধু ক্যামেরাবন্দি নয়, মন দিয়ে অনুভব করতে চান, তাঁদের জন্য সিটং হতে পারে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

তবে একবার ভেবে দেখুন করবেন হাতছাড়া এই সুযোগ! মাত্র ১২০০ টাকায় থাকা-খাওয়া! পুজোর ছুটিতে এমন সুযোগ হাতছাড়া করবেন? যেখানে মিলছে - থাকা ও চারবেলা খাবারের ব্যবস্থা, আরামদায়ক থাকার ব্যবস্থা, চারবেলা সুস্বাদু ঘরোয়া বাঙালি খাবার,পাহাড়ি পরিবেশে নিরিবিলি ছুটি, গিজার ও ইলেকট্রিক কেটলির সুবিধা, এছাড়াও গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা।

তাই এবার পুজোয় দার্জিলিংয়ের চেনা ভিড় নয়, বরং মেঘের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতে আপনার গন্তব্য হোক সিটং যেখানে অল্প খরচেই মিলবে প্রকৃতির সান্নিধ্যে এক টুকরো স্বপ্নের ছুটি!

ADVERTISEMENT