আজকাল ওয়েবডেস্ক: উত্তরপাড়ার পর হুগলি জেলার অন্যতম প্রাচীন বারোয়ারি হিসাবে খ্যাত দিগসুই শিবতলা বারোয়ারি এই বছর তাদের বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে ২৩৪তম দুর্গোৎসবে পদার্পণ করেছে। মগরা থানা এলাকার অন্তর্গত দিগসুই গ্রামের এই পুজোকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় এখন উৎসবের আমেজ। এবছরও পুজোর প্রধান আকর্ষণ হল ঐতিহ্যবাহী একচালার প্রতিমা।
গ্রামের সমস্ত মানুষ জাতি, ধর্ম, ধনী-দরিদ্র বা বর্ণ নির্বিশেষে সমবেতভাবে এই পুজোয় অংশ নেন। পুজোর কদিন নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে, যা উৎসবের আনন্দকে দ্বিগুণ করে তুলেছে। বিশিষ্ট স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. গৌতম গাঙ্গুলি এবং গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে এই বছরের পুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়। এই পুজোয় গ্রামের মা-বোনেদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বিশেষভাবে প্রশংসনীয়।
বারোয়ারির সাধারণ সম্পাদক শ্রী রাজ নারায়ণ আচার্য অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে বলেন, “জাতি, ধর্ম, ধনী-দরিদ্র কিংবা ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে পথ চলা এবং ঐক্য বজায় রাখাই আমাদের প্রধান শক্তি।”
দীর্ঘদিন ধরে এই বারোয়ারির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থাকা গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিরা তাঁদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। এলাকার বাসিন্দা মোহিত আচার্য বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষদের হাত ধরে শুরু হওয়া এই বারোয়ারি আজ শুধু একটি পুজো নয়, এটি আমাদের গ্রামের একতার প্রতীক। সুদূর অতীত থেকে বয়ে চলা এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব।"
শ্যামসুন্দর সরকার বলেন, “সময়ের সঙ্গে অনেক কিছুই বদলেছে, কিন্তু দিগসুই শিবতলা বারোয়ারির প্রতি গ্রামবাসীর ভক্তি ও ভালবাসায় কোনও ঘাটতি পড়েনি। প্রতি বছর দুর্গোৎসবের কদিন আমরা সবাই সমস্ত দুঃখ ভুলে এক পরিবারের মতো আনন্দ উপভোগ করি।”
মধুসূদন ঘোষ বলেন, “বহু দশক ধরে এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত আছি। ছোট থেকে বড় হওয়া, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এই বারোয়ারি আমাদের সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে আসছে। আগামী দিনেও এই ধারা অক্ষুণ্ণ থাকবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।”
পুজো কমিটির পক্ষ থেকে সমস্ত ধর্মপ্রাণ মানুষকে এই ঐতিহাসিক দুর্গোৎসবে উপস্থিত থেকে আনন্দ উপভোগ করার জন্য সনির্বন্ধ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।