Loading...

পূজিত হন দু’হাতের দেবী দুর্গা, বিসর্জনের আগে ওড়ানো হয় নীলকন্ঠ পাখি, বনগাঁর দত্তবাড়ির দুর্গাপুজোর ইতিহাস জানলে গায়ে কাঁটা দেবে

আজকাল ওয়েবডেস্ক: নীলকন্ঠ পাখি উড়িয়ে বিসর্জনের রীতি ছিল শতাব্দী প্রাচীন বনগাঁর দত্ত বাড়ির পুজোতে৷ দত্ত বাড়ির প্রতিমা নিরঞ্জন হলে তারপর বিসর্জনের পথে এগিয়ে যেত বনগাঁর অন্যান্য বনেদি বাড়ি ও পারিবারিক পুজোর প্রতিমা।

কয়েক দশক ধরে প্রচলিত ছিল এই নিয়ম৷ জানা যায়, এই দত্ত পরিবারের হাত ধরেই বনগাঁয় প্রথম দুর্গা পুজোর প্রচলন হয়েছিল। কালের নিয়মে পুজোর পরিধি ছোট হলেও বনগাঁ দত্তপাড়ার দত্তবাড়ির নাম আজও লোকের মুখে মুখে ঘোরে।

ADVERTISEMENT

পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা কালনীর দত্ত ছিলেন প্রতাপাদিত্যের রাজস্ব সংগ্রাহক। যশোরের বাগআঁচড়া গ্রামে তাঁর বসত ছিল। সেখান থেকে তাঁর বংশধররা প্রথমে সুকপুকুরিয়া গ্রামে আসেন।

আরও পড়ুন

পরবর্তীতে বনগাঁয় বসবাস শুরু করেন। আনুমানিক ১৮২০ সালে বনগাঁয় দুর্গোৎসবের সূচনা হয়েছিল এই দত্ত বাড়িতে। পুজো মণ্ডপের সামনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রচলন করেছিলেন প্রথম দত্ত পরিবারের সদস্যরাই।

তবে অতীতের সেই ঐতিহ্য আজ আর নেই। একে একে পরিবারের সকলেই কর্মসূত্রে বনগাঁ ছেড়েছেন। পুজোতেও সবাই আসতে পারেন না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে সংস্কার হয় সেই প্রাচীন দুর্গা মন্দির। সেখানেই আজও পূজিত হন দেবী দুর্গা। দত্ত পরিবারের পুজো বর্তমানে সর্বজনীন পুজোয় পরিণত হয়েছে।

কথিত আছে রাজা সীতারাম রায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন সূর্য নারায়ণ দত্ত। আনুমানিক ১৭১৪ খ্রিস্টাব্দে মোগলদের কাছে সীতারামের পরাজয় হলে যশোর থেকে বনগাঁয় চলে আসেন সূর্য নারায়ণ।

ইছামতির তীরে বসবাস শুরু করেন। সূর্য নারায়ণ দত্তের পুত্র স্বরূপ নারায়ণের আমলে ধীরে ধীরে পরিবারের শ্রীবৃদ্ধি হতে থাকে। যদিও এই ঘটনা নিয়ে নানা মত পার্থক্য রয়েছে।

বনগাঁর দত্ত বাড়ির পুজো নিয়ে নানা কাহিনী রয়েছে। দেবী দুর্গার দশ হাত হলেও দত্ত বাড়ির দুর্গা মূর্তির বিড়াল হাতি রূপের। অর্থাৎ, মা দুর্গার বিড়ালের মতো ছোট দুটি হাত থাকে।

জানা যায়, কোনও এক বছর পরিবারে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজবাড়িতে সে বছর পুজো বন্ধ ছিল। সেই সময় রাজবাড়ির বড়মা স্বপ্নাদেশ পান দেবীর বিড়াল হাতি রূপের।

সেই রূপেই দত্ত বাড়িতে সেবার পুজো হয়। মহালয়া থেকেই পুজো শুরু হত। দত্ত বাড়িতে নির্দিষ্ট এক ঘরে বসত চণ্ডীঘট। দশমীতে নৌকায় করে দেবী বিসর্জন হত।

দত্তপাড়ার এক বৃদ্ধ বাসিন্দা বলেন, ‘শোনা যায় কৃষ্ণনগরের রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের সঙ্গে দত্ত পরিবারের যোগাযোগ ছিল। প্রতিবছর পুজোতে দত্তরা রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের বাড়িতে যেতেন।’

তবে অস্তিত্ব কোনওরকমে টিকে থাকলেও অতীতের জৌলুস হারিয়েছে দত্ত বাড়ির পুজো। যাদের হাত ধরে বনগাঁয় দুর্গাপুজো শুরু, সেই পুজোই আজ সংকটে। জানা গিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারাই চাঁদা তুলে কোনরকমে টিকিয়ে রেখেছেন এই পুজোকে।

এলাকার বেশ কিছু পরিবার পুজোর আগে বাড়ি ফিরে তোড়জোড় শুরু করে অন্যদের সঙ্গে৷ এবারও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। প্রতিমা তরীর কাজ শুরু হয়েছে৷ দত্তপাড়ার বাইরে থাকা পরিবারের সদস্যরা অপেক্ষায় রয়েছেন বাড়ি ফিরে এই ঐতিহ্যশালী দত্তবাড়ির পুজোয় হাত লাগাবেন বলে।

ADVERTISEMENT