আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঐতিহ্য, ধর্মীয় আচার এবং ভক্তির আবহে বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী মা সর্বমঙ্গলার মন্দিরে অনুষ্ঠিত হল ঐতিহ্যবাহী নবকুমারী পূজা। মহা নবমীর পুণ্যলগ্নে এই বিশেষ পূজার মধ্য দিয়েই সমাপ্তি ঘটল সর্বমঙ্গলা বাড়ির এবারের শারদোৎসবের। নয়জন বালিকাকে দেবীর নয়টি ভিন্ন রূপে আরাধনা করার এই প্রাচীন রীতি দেখতে সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে ভিড় জমান অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী।
বর্ধমানের সর্বমঙ্গলা বাড়িতে ঐতিহ্যবাহী নবকুমারী পূজায় সমাপ্ত হল দুর্গোৎসব
ADVERTISEMENT
বেলুড় মঠের পূজাপদ্ধতি ও ভাবধারা অনুসরণ করে প্রতি বছর সর্বমঙ্গলা মন্দিরে এই কুমারী পূজার আয়োজন করা হয়। তবে এই পূজার অন্যতম বিশেষত্ব হল, এখানে একসঙ্গে নয়জন বালিকাকে দেবীর নয়টি পৃথক রূপে পুজো করা হয়। শাস্ত্রীয় রীতি মেনে এবারও রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নয়জন বালিকাকে দেবীর বিভিন্ন রূপে সাজিয়ে আরাধনা করা হয়।
আরও পড়ুন
এবারের পূজায় বালিকাদের সন্ধ্যা, সরস্বতী, ত্রিধামূর্তি, কালিকা, সুভগা, উমা, মালিনী, কুব্জিকা ও অপরাজিতা—এই নয়টি রূপে পুজো করা হয়। লাল বেনারসি, কপালে চন্দনের তিলক, পায়ে আলতা, মাথায় মুকুট এবং গলায় ফুলের মালায় সজ্জিত কুমারীদের দেখতে ভক্তদের মধ্যে ছিল বিশেষ উৎসাহ।
ঢাকের বোল, শঙ্খধ্বনি এবং বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণে মুখর হয়ে ওঠে গোটা মন্দির প্রাঙ্গণ। পুরোহিতরা শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনে কুমারীদের পাদপদ্ম ধৌত করেন। এরপর পুষ্পাঞ্জলি ও আরতির মাধ্যমে তাঁদের আরাধনা করা হয়। পূজা শেষে কুমারীদের হাতে মিষ্টি ও উপহার তুলে দেওয়া হয়।
বিশ্বাস অনুযায়ী, কুমারী কন্যার মধ্যে দেবীশক্তির প্রকাশ অনুভব করেন ভক্তরা। সেই বিশ্বাস থেকেই জীবন্ত দেবীর রূপে নয় কুমারীকে দর্শন করে পুণ্যার্থীরা নিজেদের ও পরিবারের মঙ্গলকামনা করেন।
দেবীবরণ-সহ অন্যান্য আচার পালনের পর নবকুমারী পূজার মধ্য দিয়ে সর্বমঙ্গলা বাড়ির দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটে। ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন ফের একবার বর্ধমানের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরম্পরাকে তুলে ধরল।
ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT
সবাই যা পড়ছেন
ADVERTISEMENT