আজকাল ওয়েবডেস্ক: সূর্যের আলো ফোটার মুহূর্তে ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি আর পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণে মুখরিত হয়ে উঠল শহর। রাজকীয় শোভাযাত্রায় সিংহবাহিনীকে নিয়ে যাওয়া হল পাহাড়পুরের চণ্ডীমন্দিরে।
রাজকীয় আড়ম্বরে চাদির পাখা, সোনার ছাতা ও ঝাড়ু দিয়ে দেবীকে নিয়ে যাওয়া হল চণ্ডীমন্দিরে। ৩৭৫ বছরেরও বেশি প্রাচীন ঐতিহ্য মেনে মহাসপ্তমীর ঊষালগ্নে আজও এই রীতির অন্যথা হয় না চাঁচল রাজবাড়িতে। দেবীর পুজোকে কেন্দ্র করে শুধু ধর্মীয় আচার নয়, জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস, রাজকীয় পরম্পরা আর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য কাহিনী।
মহাসপ্তমীর ঊষালগ্নে সিংহবাহিনীকে পাহাড়পুরের চণ্ডীমন্দিরে নিয়ে যাওয়ার এই প্রাচীন রীতি আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয়। বংশপরম্পরায় চলে আসা এই ঐতিহ্য দেখতে ভোর থেকেই উৎসাহ থাকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
অষ্টমীর দিন দেবীর কাছে অঞ্জলি দিতে রাজবাড়িতে ভিড় জমাবেন হাজার হাজার ভক্ত। চাঁচল ছাড়াও দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ আসবেন পুজো দিতে।
দশমীর সকালে দেবীকে পুনরায় ফিরিয়ে আনা হবে চাঁচল রাজবাড়িতে। তবে চাঁচল রাজবাড়ির পুজোর অন্যতম আকর্ষণ দশমীর বিসর্জন।
গোধূলিলগ্নে মহানন্দার সতীঘাটে বিসর্জন দেওয়া হবে মা চতুর্ভুজার প্রতিমা। আর সেই সময় লণ্ঠনের আলো দেখিয়ে দেবীকে পথ দেখাবেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। ধর্মীয় আচার ছাপিয়ে যা হয়ে ওঠে সম্প্রীতি ও সৌভ্রাতৃত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।