আজকাল ওয়েবডেস্ক: সুলতান বহলুল লোদির রাজত্বকালে ১৪৫৪ সালে শুরু হওয়া এই হুগলি জেলার কোন্ননগরের ঘোষাল বাড়ির দুর্গাপুজোর বয়স এখন ৫৭২ বছর। ঘোষাল পরিবারের সদস্য পরম শুভ ঘোষাল জানান, আকবরের শাসনকালে তাঁর পরিবার জমিদারি মর্যাদা লাভ করেছিল। প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, পুজোটি এমনভাবে আয়োজন করা হত যাতে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী এতে অংশ নিতে পারে।
পরম শুভ ঘোষাল বলেন, "ব্রিটিশ আমলে পুজো উদযাপনের জন্য আমাদের পরিবার বার্ষিক ৭৫০ টাকা অনুদান পেত। এই প্রথা পরিবারের সদস্যদের মতে আজও বজায় রয়েছে।"
তবে এর খুঁটিনাটি বিষয়ের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় সব গল্প। প্রতিমা তৈরি করা হয় খোদ ঠাকুর দালানেই। এছাড়া দোকান থেকে কেনা মিষ্টির ওপর নির্ভর না করে পরিবারের সদস্য-সদস্যারা নিজেরাই নাড়ু-সহ পুজোর বিভিন্ন নৈবেদ্য প্রস্তুত করেন। দশমীর দিন দেবীকে বিশেষ 'ইলিশ ভোগ' নিবেদন করা হয়।
পরম শুভ ঘোষাল আরও বলেন, "প্রতিমা বিসর্জনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক বিষাদময় অধ্যায়। আগে রাতে দু'টি নৌকায় করে প্রতিমা নদীতে নিয়ে যাওয়া হতো এবং মাধ নদীতে নৌকা দু'টি ধীরে ধীরে একে অপরের থেকে সরে গেলে দুর্গা প্রতিমা জলে পড়ে যেত। একবার বিসর্জনের সময় এক গ্রামবাসী বাঘের আক্রমণের শিকার হওয়ার পর থেকে দিনের আলোয় প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া শুরু করে। সেই থেকে নৌকার প্রথাটি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে। যদিও কোন্নগরে বিসর্জনের উদ্দেশ্যে সবার আগে ঘোষাল বাড়ির প্রতিমাই নিয়ে যাওয়ার ঐতিহ্য আজও অটুট রয়েছে।"
বাড়ির মাঝখানের 'ঠাকুর দালান' দীর্ঘকাল ধরেই সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। একসময় পুজোর সময় এখানে গান-বাজনা, নাটক ও যাত্রাপালার আয়োজন করা হত। ওস্তাদ বুরদুল খান ও হেমন্ত মুখার্জির মতো শিল্পীরা এখানে পরিবেশনায় অংশ নিয়েছেন। ঘোষাল পরিবারের বর্তমান প্রজন্মও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাটকের মাধ্যমে সেই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে। ২০২৫ সালে উৎসব চলাকালীন বাংলা ভাষা ও বাঙালি সত্তাকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ পরিবেশনা মঞ্চস্থ হয়েছিল। পরম শুভ ঘোষাল বলেন, "আমরা এই ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করে চলেছি। এবার প্রতিদিন আরও বেশি অনুষ্ঠানের আয়োজন করার পরিকল্পনা করছি।"