Loading...

'মায়ের ভয়ে প্রেমটা হয়নি', পুজোয় হয়েছিল স্বপ্নপূরণ, ঐতিহ্য ও বাঙালিয়ানা আঁকড়ে অন্তরা

  • সায়নী মুখার্জি

  • ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:৪১

ছোটবেলা কেটেছে মফস্বলে৷ কর্মসূত্রে কলকাতা-মুম্বই মিলিয়ে তাঁর ব্যস্ততা তুঙ্গে। শিল্পী অন্তরা মিত্র মনেপ্রাণে বাঙালি, এবং বলা বাহুল্য আত্মবিস্মৃত নন, বরং নিজেকে 'গ্রামের মেয়ে' বলেই পরিচয় দিলেন৷ ভোরের শিউলি ফুলের সঙ্গে পাট শুকানোর গন্ধও একইভাবে তাঁর কাছে বয়ে আনে পুজোর আমেজ৷ ছোটবেলায় ভোরবেলা উঠে শিউলি ফুল কুড়োতে যেতেন৷ একটা বড় খবরের কাগজে এনে বিছিয়ে দিতেন সেই সব ফুল৷ সাদা কমলার মেলায় রাশি রাশি ফুলই ছিল তাঁর কাছে শরতের স্বর্গ৷ দুর্গাপুজোর আগে আজকাল ডট ইন-এর সঙ্গে আড্ডায় উঠে এল স্মৃতি সত্তা আর ভবিষ্যতের কথা৷

শহরতলিতে বড় হওয়া মেয়েদের জীবনের অভিধানে প্যান্ডেল হপিং ছিল না। ছিল পাড়ার পুজো। অন্তরার কাছে পুজো মানেই ছিল আড্ডা দেওয়া, ফুচকা খাওয়া । মুম্বইতে গিয়ে প্যান্ডেল হপিংয়ের বদলে বেশি রাতে বেরিয়ে হাতে গোনা কিছু পুজো দেখতেন। পুজোর গান নিয়েও নস্টালজিয়া ছিল অন্তরার৷ সময়ের বদলের সঙ্গে পুজোর গানের ধারা কিছুটা বদলেছে সেকথা মানলেও প্রত্যেক বছর একটা পুজোর গান ভাইরাল হয় সেটাও উল্লেখ করেন শিল্পী৷ যদিও সেই গান মূলত পুজোকেন্দ্রিক৷ তবে বাঙালির দুর্গাপুজোর মতোই বাংলা গানের প্রতি টান এবং আবেগ চিরন্তন বলেই মনেই করেন অন্তরা৷

ADVERTISEMENT

আগে ক্যাসেট ছিল৷ সেখান থেকে সিডি পেরিয়ে ইউটিউব আজকের যুগে রিল বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম৷ এই বদলকে কীভাবে দেখেন অন্তরা? আজকাল ডট ইন-এর প্রশ্নের শিল্পীর জবাব, " দেখেছি রূপ সাগরে মনের মানুষ কাঁচা সোনা কিন্তু জেন জি চুটিয়ে শুনছে। প্রেসেন্টেশন ম্যাটার্স৷" অন্তরা মনে করেন গান কীভাবে পরিবেশিত হচ্ছে কীবাহবে দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়বস্তু পুরনো না নতুন তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ এই সময়ের প্রেক্ষিতে কীভাবে শিল্পকর্মের প্রদর্শন হচ্ছে৷ বাংলা লোকগীতি কিংবা রবীন্দ্রনাথের গানের ক্ষেত্রেও এই একই ভাবনা অন্তরার৷ তবে পুজোর গান বলতেই অন্তরার মনে পড়ে পাড়ার প্যান্ডেলে পুজোতে বাজতে থাকা সেইসব বিখ্যাত গান, কিনে দে রেশমি চুড়ি, ⁠তুমি আছ এত কাছে তাই, গোল্ড প্রিন্টের শাড়ি পরে। যেসব গান ছাড়া নাইন্টিজের পুজো ভাবাই যেত না।

আরও পড়ুন

কলেজবেলায় বাড়ির শাসন একটু শিথিল হয় কিন্তু অন্তরার কলেজের প্রথম বর্ষের পুজো কেটেছে মুম্বইতে৷ বাড়ি ছেড়ে দূরে থাকার জন্য মনখারাপ ছিল৷ প্রচুর প্রেমপ্রস্তাব পেলেও মাকে ভয় পেতেন অন্তরা৷ পাড়ার সকলেই তাঁর মাকে ভয় পেতেন ফলে প্রচুর প্রস্তাব পেলেও প্রেমটা করা হয়নি৷

মফসসলের বড় হয়ে ওঠা, সেই মেয়েটা দীর্ঘদিন বম্বেতে থাকল, সাফল্য পাওয়া এবং সেটা ধরে রাখার জন্য কী প্রয়োজন? অন্তরা জানান, জীবন সারাক্ষণ বদলাতে থাকবে৷ সেই বদলের সঙ্গে সহজে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে বদলকে উপভোগ করা দরকার৷ পাড়ার প্যান্ডেলে যখন তাঁর গান বাজে বাবা মা স্বাভাবিকভাবেই খুশি হন এবং বাবা মায়ের খুশি দেখেই অন্তরার মনে হয় জীবন সার্থক৷

শুধু সাজপোশাক বা মনেপ্রাণে নয়, খাওয়াদাওয়ার বিষয়েও অন্তরা ভোজনরসিক বাঙালি। পুজো মানেই তাঁর কাছে লুচি আলুর দম, মাটন বিরিয়ানি তো আছেই সেইসঙ্গে দশমীতে চাই গরম জিলিপি৷ অষ্টমীর ভোগ খেতে খুব ভালবাসেন যদিও প্রত্যেক বছর নিয়ম করে ভোগ খাওয়া বা সন্ধিপুজো দেখা হয় না৷ এখন ব্যস্ততায় কাটে পুজো৷ আগের মতো গল্প আড্ডা দেওয়ার অবসর কমেছে কাজের ব্যস্ততায়৷ তবুও রীতি ঐতিহ্য আঁকড়ে বাঁচতে চান অন্তরা৷

পুজোর সাজ মানে তাই ট্র‍্যাডিশনাল৷ দু'হাত ভর্তি চুড়ি, শাড়ি গয়না মাথায় ফুল এই অন্তরার পুজোর প্রিয় সাজ৷ এই বছর পুজোয় অন্তরাকে মা দিয়েছেন, একটা তুতে রঙের গোপালপুর সিল্ক, শাশুড়ি মা একটা লাল পাড়ের সাবেকি তসর সঙ্গে আছে রানি রং এর কাঞ্জিভরম৷ এছাড়া হ‍্যান্ডলুম , পিওর সিল্ক, কাঁথা এসব আছেই। পুজোর চারটে দিন কিন্তু শাড়ি অনেক৷ স্বামী শৌর্য পুজোয় অনেক শপিং করেছেন যদিও অন্তরা এখনও কিছু দেননি৷

ADVERTISEMENT