দেবীপক্ষের শুভ সূচনা ঘটে গিয়েছে। পুজো প্রায় এসেই গিয়েছে। আর মাত্র কয়েকটি দিনের অপেক্ষা। এর মাঝেই দুর্গাপুজোর প্ল্যান থেকে শপিং কতদূর হল, কী কী উপহার পেলেন সবটাই আজকাল ডট ইনের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন সুজয় প্রসাদ চ্যাটার্জি।
পুজোয় এবার কী করছেন, ঠাকুর দেখার প্ল্যান আছে কিনা জানতে চাইলে সুজয় প্রসাদ চ্যাটার্জি বলেন, "এবারে একাধিক অনুষ্ঠান আছে। ষষ্ঠী থেকে শুরু করে প্রথম সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী, রোজই শো আছে। এছাড়া, দ্বিতীয় সপ্তমীতে ইচ্ছে আছে ঠাকুর দেখতে যাব। যদিও, খুব বেশি ঘুরে ঘুরে ঠাকুর দেখা হবে না। গরম লাগে আমার। একদিন হয়তো একটু বাগবাজার সর্বজনীনে যাব।" শুধুই কাজ? আড্ডা, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা? এই বিষয়ে তাঁর সংযোজন, "পুজোয় আমার শান্তিনিকেতনের বন্ধুরা আসছে। দ্বিতীয় সপ্তমীর দিন ওদের একজনের বাড়িতে ডিনারের প্ল্যান আছে, ওখানে যাব। নবমীর দিন বাড়িতে দুপুরে কিছু বান্ধবীরা আসবে। দশমী-একাদশী মোটামুটি প্যাকিং করেই কাটবে, কারণ আমার বাইরে যাওয়ার আছে একটু। বেড়াতে যাচ্ছি।"
ADVERTISEMENT
দুর্গাপুজো মানেই কারও কাছে বাড়ি ফেরা, কারও কাছে পড়াশোনা বা কাজ থেকে ছুটি, কারও কাছে অপার স্বাধীনতা। সুজয় প্রসাদের কাছে দুর্গাপুজো আর কোন জিনিসটা সমার্থক? অভিনেতা, বাচিকশিল্পী বলেন, "আরতির সময় একটা মায়া, ইলিউশন তৈরি হয়। ঢাকের আওয়াজ, ধোঁয়া, অনেক চেনা-অচেনা মানুষের মুখের ভিড়....., তাঁরা ধ্যানমগ্ন বা প্রার্থনা মগ্ন, বা চিন্তা করছেন কিছু নিয়ে, বা দেবীর দিকে একদৃষ্টে চেয়ে আছেন, বা আনন্দের শিহরণ, বা পরের বছরের প্রস্তুতি.... এরকম অনেক কিছু আমি মুখগুলোতে দেখতে পাই। আমার কাছে ওই সমন্বয়টা ছাড়া পুজো অসম্পূর্ণ।"
সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে পুজোর ধরন, আনন্দ। ছোটবেলার পুজোর কোন জিনিসটা আজও মিস করেন তিনি? স্মৃতির পাতা উল্টাতে গিয়ে যে একসঙ্গে অনেক কথা হুড়মুড় করে তাঁর মনে ভিড় করে এসেছিল সেটা যেন তাঁর কথাতেই ধরা পড়ল। ছোটবেলার পুজোর কোন জিনিস মিস করেন বলতে গিয়ে সুজয় প্রসাদ প্রথমেই বলেন, "থিমপুজো ছিল না তখন এত। শিল্পকলার একটা অগ্রগতি ঘটবে সময়ের সঙ্গে, সেটা তো ঠিকই। কিন্তু এখন পুজোর একটা অদ্ভুত দেখানেপনা আছে। এই ব্যাপারটা ছিল না। এখন সেটা অনেক বেশি বেড়েছে। এখন পুজো অনেক বেশি আড়ম্বরপূর্ণ। আমার মনে হয়, দুর্গাপুজো আসলে কোনও ধর্ম দিয়ে বিচার করা যায় না। এটা আসলে একটা উৎসব। সেখানে সবরকম মানুষের, সব ধর্মের সম্মিলন ঘটে। সেটা যেন বজায় থাকে, এটা আমার প্রার্থনা।" তাঁর আরও সংযোজন, " ছোটবেলার পুজো আরও একটা কারণে ইন্টারেস্টিং ছিল, কারণ মা, বাবা বেঁচেছিল বলে। পুজোর সময় একটা জিনিস খুব মিস করি, ষষ্ঠীর দিন আমার বাড়িতে চিংড়ি মাছের মালাইকারি হতো। ওটা খেতে আমি খুব ভালবাসি। যদিও অ্যালার্জির জন্য এখন চিংড়ি মাছ খুব একটা খাই না। মা, বাবার সঙ্গে রেস্তোরাঁয় খেতে যেতাম, ওটাও খুব মিস করি। এখন আর পুজোর সময় রেস্তোরাঁ যাই না, এত ভিড় হয়। ছোটবেলার পুজোয় একটা অদ্ভুত সরলতা ছিল। সেই সারল্যটা গেছে। সময় যত এগোবে, নতুনের সঙ্গেও তো বন্ধুত্ব করতে হবে। যা কিছু নবীন তা তো শাশ্বত, তার সঙ্গে ভাব করতে হয়।" অভিনেতা জানালেন, "আমার কখনও খুব একটা বন্ধুবান্ধব ছিল না। আমার পুজোটা একা একাই কেটেছে, অনেক বছর। পুজোর সময় বন্ধুদের সঙ্গে বেরোনো এটা খুব একটা আমি পাইনি। তখন আমার এত বন্ধু ছিল না। এখন হয়েছে।"
আর পুজোর প্রেম? প্রশ্ন শুনেই হেসে তিনি বলেন, "না না, এসব ভীষণ বোকা ব্যাপার। হয়নি, হওয়ার চান্সও খুব কম। আমি খুব ব্যস্ত থাকি, ব্যস্ততার মধ্যে প্রেম নিয়ে ভাবতে পারব না।"
প্রেম না হোক, পুজোর শপিং ছাড়া কিন্তু পুজো অসম্পূর্ণ। সেটা হল কী? হাসতে হাসতে সুজয় প্রসাদ জানালেন, "শপিংয়ের কথা বলো না, এবার বাড়ি থেকে বের করে দেবে। তবে, এবার একটা জিনিস ঘটেছে। সোহাগদি ওঁর পুরনো শাড়ি থেকে তৈরি করে আমায় তিনটি পোশাক দিয়েছেন। তিনটি পাঞ্জাবিই অসাধারণ। এটা আমার খুব প্রিয় একটা উপহার। চৈতালি দাশগুপ্তও একটা পাঞ্জাবি দিয়েছেন। তারপর সারা বছর ধরেই টুকটাক কেনাকাটা চলতে থাকে, সেগুলো তো আছেই। আমার পুজোর সময় শো থাকে, সেখানকার কস্টিউমগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অন্বেষা বলে একজন আছেন, তিনি আমার জন্য দারুণ দারুণ পোশাক তৈরি করে দেন। এবারও তিনটি পোশাক বানিয়েছি ওঁর থেকে। তাছাড়া, আমার তো এই সময় প্রচুর দেওয়ার থাকে। কর্মীদের বা অন্যান্য যাঁদের পুজোর সময় ভালবেসে কিছু দিই, সেগুলোর কেনার থাকে।"