Loading...

লুকিয়ে সিগারেট খাওয়া থেকে পুজোয় গান 'হিট' হওয়া, মনোময়ের পুজোয় স্মৃতি-স্বপ্ন একাকার

  • সায়নী মুখার্জি

  • ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:১৫

পুজো মানেই শিল্পী মনোময় ভট্টাচার্যের কাছে পুজোর গান৷ জামাকাপড় সারাবছরই টুকটাক কেনাকাটা হয়৷ নিজের জন্য পছন্দ করে শার্ট পাঞ্জাবিও কেনেন৷ কারণ তাঁর মতে, প্রত্যেক মানুষের ব্যক্তিত্ব পছন্দ আলাদা৷ তাই জামাকাপড় নিজের পছন্দ করেই কেনা ভাল৷

ছোট মনোময় সাংঘাতিক দুরন্ত ছিল। প্যান্ডেলে বাঁশ পড়লেই পুজো শুরু হয়ে যেত। মনোময় বলেন, " তখন তো থিম পুজো ছিল না৷ প্যান্ডেল বাঁশ ধরে ঝোলা, এবার স্কুল ছুটি হয়ে যাবে, আমরা ঠাকুর নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ব, ধুনুচি নাচব এই ছিল পুজো। পুজোর সময় বাবা খুব কষ্ট করে আমাদের চার ভাই এক বোনকে একটা প্যান্ট একটা জামা কিনে দিতেন, সেটাই ছিল আনন্দের। ওই একটা প্যান্ট একটা জামা পরেই আমাদের পুজোর চারটে দিন কাটত। সেটার মধ্যেও বড় আনন্দ ছিল। একটা জামা একটা প্যান্ট বাড়িতে এসে ভাঁজ করে ওই তোশকের তলায় রেখে ওটাকে ইস্ত্রি করা, আবার পরের দিন ওটাই পরা। ওর মধ্যেই অনেক আনন্দ ছিল।"

ADVERTISEMENT

দুষ্টু মনোময় কিশোরবেলায় পুজোয় লুকিয়ে একটা সিগারেট খেয়েছিলেন৷ ধরা পড়ার ভয়ে মৌরি খেয়ে ঢুকেছিলেন কিন্তু বাবার কাছে ধরা পড়ে মারও জুটেছিল কপালে৷ "রেস্টুরেন্টে ঢুকে অনেক সময় খেয়ে বিল না মিটিয়ে বন্ধুরা বেরিয়ে আসতাম৷ এখন এসব ভাবলে মজা লাগে। বিগত ২২ বছর কলকাতায় থাকা হয়না পুজোতে৷ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় কাটে৷"

আরও পড়ুন

গান ছাড়া পুজো ভাবতেই পারেন না মনোময় ভট্টাচার্য। পুজোর গান বললেই তাঁর মনে ভিড় করে স্বর্ণযুগের একের পর এক বিখ্যাত সব গান৷ মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, পিন্টু ভট্টাচার্য সকলের গানই খুব প্রিয় তবুও মান্না দে-র গানের প্রতি অমোঘ টান মনোময় ভট্টাচার্যের৷ প্লেলিস্টের প্রিয় গান বলতে গিয়ে বললেন একাধিক গানের কথা। মান্না দে-র 'ও চাঁদ সামলে রাখো জোছনাকে', 'কথা দাও আবার আসবে', হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের 'শোনো কোনও একদিন', মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের 'বনে নয় মনে মোর', পিন্টু ভট্টাচার্যের 'এক তাজমহল গড়ো', সতীনাথ মুখোপাধ্যায়ের 'কেহ কারে নাহি ছাড়ে সমানে সমান', গুরু জটিলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের 'এ কোন সকাল রাতের চেয়ে অন্ধকার' কোনটাকে ছেড়ে কোনটাকে বলি আরকি।

তবে গান শোনার ক্ষেত্রে যে বদল এসেছে ক্যাসেট থেকে সিডি হয়ে ইউটিউব রিলস তা নিয়ে মনোময় ভাবিত নন৷ যুগের সঙ্গে তাল মেলানো সম্ভব নয় সবক্ষেত্রে এই উপলব্ধি থেকে কেবল নিজের মনের তাগিদে ভাললাগা থেকে গান করেন৷ তিনি বলেন, "আমি রিলস নিজে বানাইও না। আমি যেটা ভালবাসি সেটা রেকর্ড করি। এ বছর আমি একটি লোকসঙ্গীত করেছি। পুজোয় বার করবো ভেবেছিলাম কিন্তু মায়ের অসুস্থতার জন্য আমি আর শুটিং করতে পারলাম না।"

সোশ্যাল মিডিয়ার ভিউস নিয়েও চিন্তিত নন মনোময়৷ নিজেকে তাই সমাজমাধ্যম থেকে দূরেই রাখেন৷ তাঁর মতে বিগত ৩০ বছর গান করছেন, শ্রোতারা তাঁকে ভিউস দিয়ে মূল্যায়ন করেন না৷ তবে আগে পুজোর গানে যে নস্ট্যালজিয়া ছিল সেটা এখন মিস করেন শিল্পী। তাঁর মতে, এখন এত গান, সোশ্যাল মিডিয়া এখন মার্কেট, সেখানে শুধু গান নয় আরও অনেক কিছু আছে৷ শিল্পীদের শ্রোতাদের গান শোনার জন্য অনুরোধ করতে হয়৷ আগে পুজোর গানের জন্য যে অপেক্ষা উন্মাদনা ছিল সেটা এখন আর নেই।

মনোময় বলেন, "আমরা যাঁরা আটখানা দশখানা করে গান রেকর্ড করেছি তাদের পক্ষে এখন এই একটা গান গেয়ে ভিডিও শুট করে তার থেকে ৪০ সেকেন্ডের রিল দিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছোনোটা খুব একটা পছন্দের জায়গা নয়। মানুষ পুরো গানটাও এখন শুনছে না। গান প্রডিউস করছেন শিল্পী৷ মিউজিক কোম্পানিগুলো উঠে গেছে৷ যাঁরা আছেন তাঁরা বলছেন, সাড়ে তিন মিনিটের বেশি গান কেউ শুনবে না৷ এই অবস্থায় মানুষকে গান শোনানো খুব সমস্যা৷ তাই আমি নিজের জন্য গান করি।স্বল্পশ্রুত গান রেকর্ড করে রাখি ইউটিউবে৷ হয়তো ভবিষ্যতে মানুষ শুনবেন৷"

তবে বেশ কিছু বছর আগে চিত্রটা ছিল অন্যরকম৷ পুজোয় মনোময় ভট্টাচার্যের গান বাজছে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে, চারদিক থেকে গান গাওয়ার ডাক আসছে, গান 'হিট' হল, প্রচুর প্রশংসা, ছেলেকে গায়ক হিসাবে দেখতে পাওয়া বাবা মায়ের স্বপ্নপূরণ হতে দেখা সব মিলিয়ে সেই সময় পুজো ছিল আনন্দের, স্বপ্নপূরণের।

ADVERTISEMENT