দরজায় কড়া নাড়ছে দুর্গাপুজো। প্যান্ডেল বাঁধা থেকে পুজোয় শপিং, সবটা মিলিয়েই পুজোর প্রস্তুতি তুঙ্গে। এবার পুজোয় কী প্ল্যান, কী কী শপিং হল সবটাই আজকাল ডট ইনের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন শ্রীময়ী চট্টরাজ।
এবারের পুজোর প্ল্যান জানিয়ে শ্রীময়ী বলেন, "প্রতিবার পুজোতে আমি কলকাতাতেই থাকি। গত বছর আমার মেয়ের যেহেতু প্রথম পুজো ছিল, আমরা আমাদের বাবার বাড়ি গিয়েছিলাম। ৬০০ বছরের পুরনো পুজো আমাদের। সেখানেই আমরা গিয়েছিলাম। পালা ছিল আমাদের।" তাঁর আরও সংযোজন, "এছাড়া, আমি প্যান্ডেল হপিং করতে ভালবাসি। এবার ঠিক করেছি মেয়েকে নিয়ে প্যান্ডেল হপিং করব। রাত জেগে ঠাকুর দেখব। ভোগ খাওয়া তো মাস্ট। বন্ধুদের কমপ্লেক্সে পুজো হয় ওখানে আড্ডা মারব।"
ADVERTISEMENT
মাত্র কয়েক মাস আগেই ভূমিষ্ট হয়েছে কাঞ্চন শ্রীময়ীর ছেলে কৃষিভ। দুই ভাই-বোন অর্থাৎ কৃষিভ এবং কৃষভির কার কটা জামা হল জানতে চাইলে অভিনেত্রী বলেন, "ছোটজন অনেক পাচ্ছে। সব রাখা আছে। আমিও অনেকগুলো জামা কিনেছিলাম। দু'জনেরই অনেক হয়েছে।" তবে দুই ছেলেমেয়ের শপিং হলেও, তাঁর এখনও নিজের জন্য কিছুই কেনাকাটা করা হয়নি বলেই জানালেন অভিনেত্রী। শ্রীময়ীর কথায়, "আমার কিছুই হয়নি। কাঞ্চনের কিছুটা হয়েছে। কিন্তু আমার কিছুই হয়নি।" কোন পোশাক তাঁর সবথেকে বেশি পছন্দের? অভিনেত্রী জানালেন, "শাড়ি। অনলাইনের বদলে আমি গিয়ে কিনি। অনলাইন জিনিস, রং এগুলো বোঝা যায় না। যদিও অনলাইন থেকে কয়েকটা কিনেছি, পছন্দের সাইট থেকে। কাঞ্চন দু'টো জামা উপহার দিয়েছে। আমার আবার ছোটবেলার মতো, সকালে একটা, বিকেলে একটা নতুন জামা পরতে লাগে। ফলে শপিং অনেক বাকি।"
বড় হলে দায়িত্ব বাড়ে। আনন্দের ধরন, অর্থ বদলায়। কিন্তু ছোটবেলার দুর্গাপুজোর আনন্দ একেবারেই অন্যরকম হয়। পিছু ফিরে তাকালে আজ ছোটবেলার দুর্গাপুজোর কোন জিনিসটা সবথেকে মিস করেন তিনি? অভিনেত্রী বলেন, "ছোটবেলায় যেমন একটা টাইমলাইন বেঁধে দেওয়া হতো, ৯ টার পর তুমি আর বাড়ি ফিরতে পারবে না। ম্যাক্সিমাম ৯.৩০। ওটার একটা আলাদা আনন্দ ছিল। ঝাড়ি মারা, খাওয়া, ইত্যাদি, মা জানতে পারবে না কিছু.... এগুলোর একটা আলাদা মজা ছিল। এখন তো বড় হয়ে যাওয়ার পর আর কেউ বলার থাকে না। স্বাধীন। সারারাত ঠাকুর দেখি। ওই শাসনটা খুব মিস করি। ওই লুকিয়ে জিনিসপত্র করা, ফোনের রিচার্জ করানো, লাল কাপড় দেওয়া বিরিয়ানির হাঁড়ি থেকে বিরিয়ানি কিনে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে খাওয়া, সেগুলোর মধ্যে আলাদা আনন্দ, তৃপ্তি ছিল। ওতে কোনও ভেজাল ছিল না। এখন সবাই ব্যস্ত, অর্থ, ক্ষমতা, অনেক ভাবে উদযাপন করতে পারে। কিন্তু ওই সময়টা খুব মিস করি। বন্ধুরা এখনও আছে, কিন্তু আমরা সবাই এখন খুব বড় হয়ে গিয়েছি। মেয়েকে দেখলে মনে হয় ও যেন ছোট থাকেই। কিন্তু সেটা তো সম্ভব নয়।"
দেবী দুর্গার কাছে কী প্রার্থনা থাকবে তাঁর এবার? শ্রীময়ী বললেন, "নতুন করে প্রার্থনা করার কিছু নেই। মানুষের মাথায় যেন একটু সুবুদ্ধি হয়। মা দুর্গা যেমন অশুভ শক্তিকে বিনাশ করেছিল, অসুরকে বধ করেছিল, তেমনই এখনও যে অশুভ শক্তি আছে, যাঁরা অন্যকে আঘাত করেন তাঁদের যেন মা সুবুদ্ধি দেন। উৎসব সবার। তোমার আনন্দ, আমার নিরানন্দ যেন না হয়। কষ্ট, রাগ, অভিমান, হিংসা দূরে রেখে সবাই যেন আনন্দ করে। মা যেন সবাইকে শুভ বুদ্ধি দেন।"