এই পুজোয় আসছে তাঁর প্রথম ছবি, 'এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র'। জাঁকিয়ে চলছে ছবির প্রচার, তার মাঝে কি পুজোর প্ল্যানিং থেকে শপিং হল? আজকাল ডট ইনকে কী জানালেন দিব্যাণী মণ্ডল?
পুজোর প্ল্যানিং জানতে চাইলেই দিব্যাণী বলেন, "পুজোটা না এবার একটু আগে থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে। পুজোর আগের সময়টা পুরোটাই প্রমোশনে কাটছে। ইন্ডাস্ট্রিতে আসার পর গত ৩ বছর কাজ করতে করতেই কেটেছে। এর দু'টো পুজোর অভিজ্ঞতা হয়েছে। একবার সেটে, একবার বাইরে। কিন্তু এবারের পুজোটা অন্যরকমের। অনেক আগে থেকে পুজোর ভাবটা অনুভব করতে শুরু করে দিয়েছি। সাজগোজ কবে থেকে যে শুরু করে দিয়েছি...! এবার শহরটা জাস্ট সেজে উঠতে বাকি আছে। সিনেমা আসছে, খুবই উত্তেজিত। আর মহালয়া থেকেই প্রতিদিনের জন্যই প্ল্যান হয়ে গিয়েছে। দক্ষিণ ভারতের একটি কাজ করছি। ওটার জন্য আলেপ্পি এসেছি। তবে সেখান থেকে ফিরে আবার ছবির প্রচারে ঢুকে পড়ব।"
ADVERTISEMENT
দিব্যাণীর ছোটবেলা কেটেছে মুর্শিদাবাদে। তিনি নবাবের শহরের মেয়ে। কাজের সূত্রে 'সিটি অফ জয়'-এ আসা। এই দুই জায়গার পুজোর মধ্যে বেসিক ফারাক কী? ছোটবেলার পুজোর কোন জিনিসটাই বা মিস করেন তিনি? অভিনেত্রীর কথায়, "এখন পুজো অনেকটা আলাদা হয়ে গিয়েছে। ছোটবেলায় আমি কখনও কলকাতার পুজো দেখিনি, কাজ করতে এসেই দেখা। কিন্তু কলকাতার পুজো অন্যরকমের। মানে কুমোরটুলি সেজে উঠেছে, শহর জুড়ে টুনিবাল্ব লাগানো হচ্ছে, এটা দেখতে পারাটা একটা আলাদা রকমের অনুভূতি। যাঁরা শহরের বাইরে থাকেন, পুজোয় ফিরতে পারেন না, তাঁরা যে এটাকে কী মিস করেন, বলে বোঝানো যাবে না।"
তাঁর আরও সংযোজন, "আমার কাছে ছোটবেলার পুজো মানে মুর্শিদাবাদের পুজো। এখন হয়তো অনেক জাঁকজমক হয়েছে, এখন অনেক বেশি সাজানো গোছানো পুজো হয়। কিন্তু তখন আমার বাড়ির ওখানে খুব সাদামাটা ভাবে প্যান্ডেল হতো। অনেকটা গিয়ে গিয়ে এক একটা করে প্যান্ডেল হতো। শিকড়ের একটা গন্ধ আছে যেন ওখানকার পুজোয়। সেটার টানে ফিরতে হয়ই। এখানে এক রকমের পুজো হয়, এখানকার পুজোও আমার ভীষণ ভাল লাগে, কিন্তু ওখানে বাড়ির একটা ব্যাপার আছে। যদিও দু'টোর তুলনা হয় না।
ছোটবেলার অনেক কিছু মিস করি। আমার দিদা দাদার (দাদু) সঙ্গে রিক্সা করে ঘুরতে বেড়াতাম। এখন দাদা নেই। সেগুলো খুব মনে পড়ে। দাদু (ঠাকুরদা), আম্মা (ঠাকুমা), আমি, আমার ভাই, সবাই মিলে অনেক দূরে দূরে ঠাকুর দেখতে যেতাম গাড়ি করে। দাদুও এখন নেই। এগুলো আলাদা একদম, খুব মিস করি। কিন্তু আর ফিরে পাওয়া যাবে না। এই পুজোয় আমার আম্মা, দিদা আমার কাছে আসছে। আমার প্রথম সিনেমার প্রিমিয়ারে থাকবে। খুবই উত্তেজিত কী পরবে না পরবে সেইসব নিয়ে।"
পুজো মানেই কী দিব্যাণীর কাছে? "পুজো মানেই বাড়ি আর কলকাতা। আর অনেক, অনেক খাওয়া দাওয়া। পুজোর সময় পাড়ায় পাড়ায় খিচুড়ি আলুর দম ভোগ দেওয়া হয় না, ওইটা প্রচণ্ড ভালবাসি খেতে। আর আমাদের ওখানে একটা পুজোয় অষ্টমীর দিন একটা অদ্ভুত টেস্টি সুজি বানাত। ওই লুচি সুজি খেতে দারুণ লাগত। এবারও মাকে বলেছি অষ্টমীতে লুচি সুজি বানাতে", জানালেন অভিনেত্রী।
পুজোর শপিং শেষ? মুচকি হেসে তিনি বলেন, "এবারে প্রচুর শাড়ি কিনে ফেলেছি। এবার একটু বড় বড় পুজো। শাড়ি পরতে ভালবাসি, টানা ৪-৫ দিন একই রকমের জামা পরতে আমার ভাল লাগে না। কিন্তু এবার যেহেতু ছবির প্রচার আছে তাই আলাদা। এবার অধিকাংশ শাড়ি কিনেছি।"
আর পুজোর প্রেম? প্রশ্ন শুনেই হাসি তাঁর। বললেন, "এটা আমার সঙ্গে সত্যিই হয়নি। বাবা, মা, ভাইয়ের সঙ্গে সারারাত ঠাকুর দেখতে যেতাম। সকালে এসে ঘুমাতাম। তবে হ্যাঁ, কম বেশি টুকটাক সব পুজোতেই প্যান্ডেলে বসে কারও সঙ্গে একটু চোখাচুখি হয় যে, সেটা হয়েছে। তবে ওটুকুই। ওরকম ভাবে লাইন মারা, পুজোর প্রেম নিয়ে বাকিদের মুখে যেভাবে শুনেছি, সেসব হয়নি এখনও। কোনও সিজনাল প্রেম আমার জীবনে আসেনি। তবে অনেকে আমাকে ঝাড়ি মেরেছে, কিন্তু আমি না। আমার বাবা খুব রাগী। এখন যদিও বন্ধু হয়ে গেছে। ছোটবেলায় সারাক্ষণ হাত ধরে থাকত, যাতে কেউ আমার সঙ্গে কথাও না বলতে আসতে পারে।"