Loading...

জার্মানির বুকে দুর্গাভিলের শারদোৎসব: ষষ্ঠ বর্ষে প্রবাসী বাঙালির মিলনমেলা

  • নিজস্ব সংবাদদাতা

  • ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৪৮

প্রবাসের মাটিতে থেকেও শিকড়ের টান অমলিন। হাজার হাজার মাইল দূরে জার্মানির বুকে শরতের আগমন মানেই বাঙালির হৃদয়ে ঢাকের শব্দ, মায়ের আগমনের প্রতীক্ষা আর পরিচিত উৎসবের আবেগ। বাংলা থেকে দূরে থেকেও সেই চিরপরিচিত আবহকে আপন করে নিতে আবারও শারদোৎসবে মাততে চলেছে জার্মানির বাভারিয়া প্রদেশের ফ্রাঙ্কোনিয়া অঞ্চলের শহর এরলাঙ্গেন। প্রবাসী বাঙালিদের উদ্যোগে আয়োজিত দুর্গাভিলের ষষ্ঠ বর্ষের দুর্গাপুজো এ বছর হয়ে উঠতে চলেছে ধর্মীয় ঐতিহ্য, শিল্পসাধনা, সংগীত, খাদ্যসংস্কৃতি ও সামাজিক মিলনের একা বর্ণময় উৎসব।

ADVERTISEMENT

দুর্গাভিলের পথচলা শুরু হয় ২০২১ সালে, করোনা অতিমারির কঠিন সময়ে। মাত্র তিনটি বাঙালি পরিবারের আড্ডা থেকে জন্ম নিয়েছিল একটি সহজ অথচ আবেগপূর্ণ ভাবনা-বিদেশের মাটিতেই যদি মায়ের আরাধনা করা যায়, তাহলে নিজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও উৎসবের সঙ্গে দূরত্ব কিছুটা হলেও ঘুচবে। সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয় দুর্গাভিলের যাত্রা। আজ সেই উদ্যোগ ছয় বছরের পথ অতিক্রম করে প্রবাসী বাঙালিদের একটি পরিচিত সাংস্কৃতিক পরিসরে পরিণত হয়েছে।

আরও পড়ুন

দুর্গাভিলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলির একটি হল জার্মানির মাটিতে নিজেদের হাতে মায়ের প্রতিমা তৈরি করার ঐতিহ্য। বিদেশের বহু জায়গায় তৈরি প্রতিমা নিয়ে গিয়ে পুজোর আয়োজন করা হলেও দুর্গাভিলের সদস্যরা নিজেরাই প্রতিমা তৈরি করেন।

প্রতিমা তৈরিতে প্রচলিত ঐতিহ্যবাহী নিয়ম অনুসরণের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের মাটির যথাযথ মিশ্রণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এঁটেল মাটি, বেলে মাটি, গঙ্গামাটি, পূর্ণমাটি এবং স্থানীয় মাটি-বিভিন্ন উপাদান একত্র করে প্রতিমা নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা হয়। বিদেশের মাটিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হলেও শিল্পসাধনায় নিবেদিত দীপঙ্কর সরকার এর নিজের হাতে তৈরি প্রতিমার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু মানুষের আবেগ। প্রথম বছরে প্রতিমার উচ্চতা ছিল প্রায় ৭০ সেন্টিমিটার। ছ'বছরের যাত্রায় সেই প্রতিমা নির্মাণের পরিসর বেড়ে এখন প্রায় ২.৪ মিটারের সাবেকি প্রতিমায় পৌঁছেছে।

দুর্গাভিলের এবারের শারদোৎসবের অন্যতম বড় আকর্ষণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লাইভ মিউজিকের আসর। পুজোর আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে মলহার ব্যান্ড তাদের নিজস্ব দল নিয়ে সংগীত পরিবেশন করবে। ব্যান্ডের পরিবেশনা ঘিরে সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে রয়েছে উৎসাহ।

এর পাশাপাশি বিশিষ্ঠ সঙ্গীত শিল্পী মহুয়া ব্যানার্জি এবং তাপস দত্ত (মার্কো) এর লাইভ কনসার্টও থাকছে পুজোমণ্ডপে। তাঁদের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পুজোর দিনগুলিতে তৈরি হবে এক বিশেষ 'মিউজিক্যাল আফটারনুন'-এর আবহ।

আর বাঙালির দুর্গাপুজো মানেই ভোগ, খাওয়াদাওয়া এবং জমজমাট আড্ডা। দুর্গান্ডিলের পুজোতেও এই পরিচিত ঐতিহ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত দুপুর ও রাতের খাবারের জন্য আলাদা মেনু রাখা হয়েছে।

পুজোর ভোগের পাশাপাশি থাকছে সদস্যদের নিজেদের হাতে তৈরি ফুচকার স্টল। সদস্যরা উৎসাহের সাথে যত্ন সহকারে তৈরি করে ফুচকা, এবছর তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে কলকাতার স্বাদের ঝালমুড়ি অথবা পাপড়ি চাট। প্রবাসের মাটিতে এই পরিচিত খাবারের আয়োজন বাঙালির নস্টালজিয়াকে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি স্থানীয় জার্মান ও অন্যান্য দেশের মানুষের কাছেও বাংলার খাদ্যসংস্কৃতিকে পরিচিত করার সুযোগ তৈরি করবে।

দুর্গাভিলের এবারের পুজোর অন্যতম উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনা হল পুজোর পর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এবং প্রতীকী বিসর্জনের আযোজন। ঢাকের তালে শোভাযাত্রা এবং শেষে কৃত্রিম জলাধারে দেবীর প্রতীকী বিসর্জনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ADVERTISEMENT