Loading...

‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’, খিদের গল্প বলছে সল্টলেক এ কে ব্লকের পুজো

আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’ অন্নদামঙ্গল কাব্যের সেই প্রার্থনা পেরিয়ে এসেছে কয়েক শতাব্দী। কবিতার পঙক্তি থেকে তা হয়ে উঠেছে বাঙালির চিরন্তন আকাঙ্ক্ষা, সন্তানের মুখে অন্ন জুটুক, ঘরে থাকুক খাবার, মানুষ বেঁচে থাকুক সম্মানের সঙ্গে। সেই আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রে থাকা ‘খিদে’-কেই এবার দুর্গাপুজোর মণ্ডপে তুলে ধরছে সল্টলেকের একে ব্লক অ্যাসোসিয়েশন।

৩৯তম বর্ষে এ কে ব্লক অ্যাসোসিয়েশনের ভাবনা ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে’। তবে শুধু নিজের সন্তান নয়, এই প্রার্থনা যেন সমস্ত শিশুর জন্য। শিল্পী রিন্টু কোনার ও মধুসূদন দাসের ভাবনায় মণ্ডপে উঠে আসছে অন্ন, মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াইয়ের গল্প।

ADVERTISEMENT

মণ্ডপে ঢুকলেই চোখে পড়বে মানুষের জীবন ও নৌকার এক অদ্ভুত সাদৃশ্য। নদীর বুকে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে চলে নৌকা। কিন্তু সেই যাত্রাপথ কখনও মসৃণ নয়। ঢেউ, স্রোত, ঝড়—একাধিক বাধা পেরিয়েই নৌকাকে পৌঁছতে হয় গন্তব্যে। শিল্পীর ভাবনায় ঠিক তেমনই মানুষের জীবনও। জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি মানুষকে পেরোতে হয় নানা প্রতিকূলতা। কখনও অর্থের অভাব, কখনও অন্নের সংকট, কখনও সামাজিক টানাপড়েন। সেই লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবেই মণ্ডপে ব্যবহার করা হয়েছে নৌকা।

আরও পড়ুন

শিল্পী মধুসূদন দাসের ভাবনায় নৌকার ভিতর ও চারপাশে ফুটে উঠছে মানুষের প্রতিকৃতি। প্রতিটি মুখ যেন আলাদা একটি গল্প। কারও জীবনে সংগ্রাম, কারও কাছে অন্নের চিন্তা, আবার কেউ প্রতিকূলতার মধ্যেও এগিয়ে চলেছেন। নৌকার গতিপথের সঙ্গে তাই মিশে যাচ্ছে মানুষের জীবনযাত্রা। এই শিল্পভাবনার কেন্দ্রে রয়েছে অন্ন। কারণ, মানুষের যাবতীয় স্বপ্নের শুরুটাও যে পেট ভরা খাবার থেকে। অন্নের নিশ্চয়তা না থাকলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভবিষ্যৎ ইত্যাদি কোনও কিছুই সম্পূর্ণ হয় না। সেই বাস্তবতাকেই সরাসরি সামনে আনতে চেয়েছেন শিল্পীরা।

PUJO

মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে একটি হাঁড়ি। বাঙালি ঘরের অতি পরিচিত এই সামগ্রী এখানে শুধুমাত্র রান্নার পাত্র নয়, হয়ে উঠেছে অন্নের প্রতীক। একটি হাঁড়ি মানে একটি সংসার, একটি পরিবারের খাবারের নিশ্চয়তা। আবার সেই হাঁড়ি খালি থাকলে তার মধ্যে ধরা পড়ে অভাবের যন্ত্রণা। ফলে মণ্ডপের শিল্পভাবনায় হাঁড়িও গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে।

শিল্পী রিন্টু কোনারের ভাবনায় এই আয়োজন শুধুমাত্র একটি পরিবারের সুখের কথা বলে না। ‘আমার সন্তান এখানে কোনও একজনের সন্তান নয়, সমাজের প্রতিটি শিশুই সেই সন্তানের প্রতীক। প্রতিটি শিশুর মুখে খাবার, প্রতিটি পরিবারের ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানোর নিশ্চয়তাই থিমের মূল বক্তব্য।

অন্নদামঙ্গলের কয়েকটি শব্দকে আশ্রয় করে তাই এ কে ব্লকের ৩৯তম বর্ষের পুজো কেবল উৎসবের আয়োজন হয়ে থাকছে না। মণ্ডপের শিল্পে উঠে আসছে মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক প্রশ্ন। নৌকা বলছে এগিয়ে চলার কথা। মানুষের প্রতিকৃতি বলছে সংগ্রামের কথা। আর হাঁড়ি মনে করিয়ে দিচ্ছে সব লড়াইয়ের শেষে মানুষের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন, দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন।

দেবীর আরাধনার আবহে তাই এ কে ব্লকের মণ্ডপে এবার উচ্চারিত হচ্ছে এক পুরনো অথচ আজও প্রাসঙ্গিক প্রার্থনা সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে। শুধু কোনও একটি পরিবারের নয়, সমাজের প্রতিটি সন্তানের।

ADVERTISEMENT