আজকাল ওয়েবডেস্ক: অপেক্ষা শেষে কড়া নাড়ছে দুর্গা পুজো। চৌধুরী বাড়ির দরদালানে এসে গেছে একচালার সাবেকি প্রতিমা। পূর্ব বর্ধমানের রায়ান গ্রামের এই পুজোটি গোটা গ্রামের পুজোয় এখন। তিন'শ ষাট বছরের পুজোয় বনেদীয়ানার গৌরব। ঔরঙ্গজেব যখন দিল্লির শাসন ক্ষমতায়, তখন এ পুজোর সূচনা। বছরভর অপেক্ষা থাকে গোটা গ্রামের, এই পুজোর।
এ পুজোয় এসেছেন কাজী নজরুল ইসলাম, মহাশ্বেতা দেবী, ভোলানাথ সেন-সহ বহু বিশিষ্ট মানুষ। এখানে রীতি মেনে পুজোর সূচনা হয়ে গেছে। এখন চলছে প্রাক পর্ব। উৎসব চলবে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো অবধি।
মুঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেব যখন দিল্লির মসনদে, সেই সময় শুরু হওয়া প্রায় ৩৬০ বছরের প্রাচীন এই পারিবারিক পূজা আজ রূপ নিয়েছে গোটা গ্রামের মিলন উৎসবে। এবাড়ির উত্তরপুরুষ বিশ্বেশ্বর চৌধুরী জানাচ্ছেন, রথের দিন কাঠামো পূজার মাধ্যমে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং মহালয়ায় চক্ষুদানের মধ্য দিয়ে দেবীর রূপদান সম্পন্ন হয়। বৈদিক রীতি ও গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকার নির্ঘণ্ট মেনে পঞ্চমীর দিন থেকেই চৌধুরী বাড়িতে বিধিমতে পূজার আনুষ্ঠানিক সূচনা ঘটে। দশমীতে প্রতিমা নিরঞ্জনের পর সেই বেদীতেই অধিষ্ঠিত হন মা লক্ষ্মী। পঞ্চমীতে প্রজ্বলিত জোড়া প্রদীপ নির্বাপিত না হয়ে একটানা জ্বলে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা পর্যন্ত।
পূর্বপুরুষদের নির্ধারিত বিধি মেনেই যুগ যুগ ধরে নির্বাহ হয়ে আসছে পূজার সমস্ত আচার ও ব্যয়ভার। বহু বছর আগেই পশুবলি প্রথা বন্ধ হয়ে গেলেও নিষ্ঠা ও ঐতিহ্যে কোনও ভাঁটা পড়েনি। নবমীতে গ্রামের বহু মানুষ ভোগ গ্রহণ করেন। এ বাড়ির পুরোহিত, নাপিত, তাঁতী সকলেই জমিদারি থেকে দেওয়া নিষ্কর জমি ভোগ করেন। তারাও পুজোর শরিক।
একটি দিঘির মাছ বিক্রির আয় কাজে লাগে পুজোর। চৌধুরী পরিবার বর্তমানে আকারে অনেক বড়।পরিবারের নবীন সদস্য ডাক্তার বিবস্বান চৌধুরী জানান, কর্মসূত্রে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা পরিবারের সদস্যরা পুজোর ক’টা দিন এক ছাদের তলায় ফিরে আসেন আনন্দ ভাগ করে নিতে। বস্ত্রদান থেকে শুরু করে সমষ্টিগত আনন্দ উদযাপনের মাধ্যমে রায়ানের চৌধুরী বাড়ির এই দুর্গাপূজা আজও তার সাবেকিয়ানার গৌরব ও মিলনের বার্তা বহন করে চলেছে।