Loading...

বৃক্ষ পূজন সঙ্গে বৃক্ষ ছেদন, মানব ধর্মের দুই বিপরীতধর্মী ক্রিয়া নিয়ে ডানকুনির মিলন সংঘের এবারের থিম 'কল্পবৃক্ষ'

আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাধারণত দেখা যায় মানুষ বৃক্ষকে ঐশ্বরিক শক্তি হিসাবে পুজো করে। আবার সেই মানুষই বৃক্ষকে ছেদনও করছে। দু'টি বিপরীতধর্মী ক্রিয়াই সমান্তরালভাবে মানব ইতিহাসে বর্তমান। বর্তমান সমাজে এই দ্বান্দিকতাকেই মণ্ডপ ভাবনায় ফুটিয়ে তোলা তোলা হয়েছে হুগলির ডানকুনিতে।

১২তম বর্ষে মিলন সংঘ ডানকুনির দুর্গাপুজোর এবারের থিম ভাবনায় 'কল্পবৃক্ষ '। সাধারণত হিন্দু , জৈন ও বৌদ্ধ শাস্ত্র মতে কল্পবৃক্ষকে ঐশ্বরিক গাছ হিসাবে আরাধনা করা হয়ে থাকে। শাস্ত্রীয় ধর্মভাবাপন্ন মানুষ নিজের মনের ইচ্ছা পূরণের জন্য তাঁদের আর্তি জানায় সেই কল্পবৃক্ষের কাছে। বৃক্ষ সেখানে তাঁদের পূজিত শক্তি হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে। কিন্তু এর পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে বৃক্ষ ছেদনের ঘটনাও মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘটে চলেছে। গাছকে রোদন করে বৃহৎ অট্টালিকা নির্মাণ যেমন চলছে ঠিক সেরকমই জঙ্গলকে সাফ করেও পশু পাখি সমৃদ্ধ বৈচিত্রময় বাস্তুতন্ত্রকেও ধ্বংস করা হচ্ছে।

ADVERTISEMENT

যে মানুষ একহাতে বৃক্ষকে ঐশ্বরিক শক্তি হিসাবে পুজো করছে সেই মানুষই অপর হাতে বৃক্ষকে ছেদনও করছে, দু'টি বিপরীতধর্মী ক্রিয়াই সমান্তরালভাবে মানব ইতিহাসে বর্তমান। মানব ইতিহাসে এই দ্বান্দিকতাকেই মণ্ডপ ভাবনায় ফুটিয়ে তুলেছেন শিল্পী দীপঙ্কর ঘোষ।

আরও পড়ুন

পুজো কমিটির সম্পাদক গোপাল চন্দ্র প্রামানিক জানিয়েছেন, “মণ্ডপের প্রবেশ পথের প্রথমেই বিরাট অট্টালিকার প্রতিমূর্তিকে নির্মাণ করা হয়েছে এবং গোটা মণ্ডপের মধ্যেই একাধিক কল্পবৃক্ষের অবয়ব, শুষ্ক গাছ এবং নিঃশব্দ বসন্তকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মণ্ডপ নির্মাণে চট , ঝরা পাতা, কাঠ, ফাইবার, বেত ইত্যাদি সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।”

ADVERTISEMENT