আজকাল ওয়েবডেস্ক: একে একে বছর এগোচ্ছে। বয়স বাড়ছে এই পুজোর। তাতে বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পরম্পরাকে অক্ষুণ্ণ রাখার প্রয়াসে কোনও অন্যথা হয়নি এই পুজোতেও। প্রাক্-হীরক জয়ন্তী বর্ষে সাবেকিয়ানার আবহে দুর্গোৎসবের আয়োজন দক্ষিণ দিল্লির কালী বাড়িতে। প্রবাসে থেকেও তাদের মূল চেষ্টা বাংলার সংস্কৃতিকে আপন করে বাঁচিয়ে রাখা, আর তা থেকেই এবারের পুজোর মূল ভাবনা ‘বাংলার বাইরে বাংলা’।
দক্ষিণ দিল্লির অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বাংলার নিজস্ব পরম্পরা ও সংস্কৃতির সংরক্ষণের বিষয়টিতে জোর দিয়েছে বরাবর। নজর কেড়েছে সকলের। এত বছরেও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে অন্যথা হয়নি তাদের। এবছরের পুজোতেও তার ছাপ স্পষ্ট। বাংলারে বাইরে, দুর্গা পুজোয় ফুটিয়ে তুলছে বাংলার পরিচিত দৃশ্যপট ও সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ দিয়ে। পেশাদার শিল্পীর মাধ্যমে নয়, মণ্ডপসজ্জার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে তার রূপায়ণ সবটাই করেছেন কালীবাড়ির সদস্যরা। মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলেছেন নিজস্ব ভাবনা, সৃজনশীলতা।
ADVERTISEMENT
দক্ষিণ দিল্লী কালীবাড়ির সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দাশ জানিয়েছেন, তাঁদের দুর্গাপুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল ‘সাবেকিয়ানা’ এবং ‘ইন-হাউস প্রেজেন্টেশন’। তাঁর কথায়, 'আমাদের পুজোর মূল লক্ষ্য বাংলার ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে যথাযথ মর্যাদায় তুলে ধরা। একই সঙ্গে কালীবাড়ির সদস্যদের নিজস্ব ভাবনা, সৃজনশীলতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে পুজোকে একটি স্বতন্ত্র রূপ দেওয়া। একচালে প্রতিমা সাজানো হয়েছে চিরাচরিত ডাকের সাজে।
পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিও দিল্লি কালীবাড়ির এবারের দুর্গোৎসবে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মণ্ডপসজ্জা ও প্রতিমা নির্মাণে পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। যমুনা নদীর দূষণ রোধে কালীবাড়ির দীর্ঘদিনের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সুব্রত দাশ জানান, ২০১৪ সাল থেকেই মন্দির চত্বরে নির্মিত নিজস্ব জলাধারে প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর ফলে নদীদূষণ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপনের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।
দুর্গোৎসবের বাইরেও ধর্মীয়, সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে দক্ষিণ দিল্লী কালীবাড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে বহুদিন ধরেই। মন্দির প্রাঙ্গণ উন্মুক্ত সকলের জন্য। প্রতিদিন বহু ভক্তের সমাগমে এই প্রাঙ্গণ ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সামাজিক সহাবস্থানের এক পরিচিত কেন্দ্রে পরিণত হয়। কালীবাড়িতে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কোনও কুপন বা অর্থমূল্য ছাড়াই ভোগ গ্রহণের সুযোগ পান।