Loading...

কংক্রিটের জঙ্গলে ৩০০ বছরের প্রাচীন মন্দিরের ছায়ায় দুর্গাপুজো, দ্বিতীয় বর্ষে কোকাপেটের ‘ঋতুরঙ্গ’

আজকাল ওয়েবডেস্ক: একদিকে আকাশছোঁয়া বহুতল, ঝাঁ চকচকে আবাসন আর দ্রুত বদলে যেতে থাকা শহুরে জীবন। অন্যদিকে প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন এক মন্দির, চারপাশে স্নিগ্ধ সবুজ আর বাঙালির চেনা পুজোর আবহ। তেলেঙ্গানার কোকাপেটে এই দুইয়ের মেলবন্ধনেই আবারও শারদোৎসবের আয়োজন করতে চলেছে ‘ঋতুরঙ্গ কোকাপেট সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটি’। গত বছর পথচলা শুরু করা এই পুজো ২০২৬ সালে পা রাখছে দ্বিতীয় বর্ষে। আর এবার পুজোকে আরও বড় পরিসরে, আরও বেশি মানুষের মিলনমেলায় পরিণত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন উদ্যোক্তারা। তেলেঙ্গানার অন্যতম জনপ্রিয় এলাকা কোকাপেট। কর্মসূত্রে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষের বসবাস এখানে। বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও প্রজন্মের মানুষের এই মিলনস্থলে বাঙালির দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক অন্যরকম উদ্যোগ। ‘ঋতুরঙ্গ’-এর ভাবনা শুধুমাত্র দেবী দুর্গার আরাধনায় সীমাবদ্ধ নয়। বরং বাঙালি ও অবাঙালি প্রতিবেশীদের এক ছাতার তলায় এনে এমন একটি উৎসবের পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে কেউ বাইরের মানুষ নন, সকলেই আপনজন।

২০২৫ সালে প্রথমবারের জন্য আয়োজিত হয়েছিল এই পুজো। প্রথম বছরেই নজর কেড়েছিল উদ্যোক্তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা। আড়ম্বরের চেয়ে আন্তরিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে পুজোর দিনগুলিকে আড্ডা, গানবাজনা, ধুনুচি নাচ এবং একসঙ্গে আনন্দ উদযাপনের উৎসবে পরিণত করার লক্ষ্য ছিল তাঁদের। এবার দ্বিতীয় বর্ষে তাই আয়োজনের পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। টানা পাঁচ দিন ধরে চলবে দুর্গাপুজো। দেবীর আরাধনার পাশাপাশি থাকছে নাচ, গান, নাটক ও আবৃত্তির মতো নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিশুদের আনন্দ থেকে প্রবীণদের আড্ডা-সহ সব বয়সের মানুষের জন্যই উৎসবের প্রাঙ্গণকে আকর্ষণীয় করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন আয়োজকেরা। এবারের বিশেষ ভাবনায় গুরুত্ব পাচ্ছে ঋতুচক্র এবং ভারতের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির মেলবন্ধন।

ADVERTISEMENT

PUJO

আরও পড়ুন

পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে শারদীয়া পত্রিকা ‘ঋতুচিত্র’। প্রবাসে থেকেও বাংলা ভাষা, সাহিত্য, স্মৃতি ও সৃজনশীলতার সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখার ভাবনা থেকেই এই সংকলনের পরিকল্পনা। পুজোর আনন্দের পাশাপাশি বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এবারের পুজোয় পাঁচ দিনই সকলের জন্য ভোগের ব্যবস্থা থাকছে। ভাষা, জাতি কিংবা পরিচয়ের ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে বসে প্রসাদ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্প্রীতির বার্তা দিতে চান উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি থাকছে নানা ধরনের খাবারের স্টল, হস্তশিল্প ও কেনাকাটার অন্যান্য স্টল। ফলে পুজোপ্রাঙ্গণ হয়ে উঠবে উৎসব, সংস্কৃতি, খাবার এবং মিলনমেলার এক প্রাণবন্ত ঠিকানা।

PUJO

কোকাপেটের পোচারাম গুট্টা এলাকার হনুমান মন্দির প্রাঙ্গণে বসছে পুজোর আসর। উদ্যোক্তারা জানিয়েছে, প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন এই মন্দির ঘিরে রয়েছে ঐতিহ্য ও ইতিহাসের আবহ। চারপাশে দ্রুত বেড়ে ওঠা বহুতল আর কংক্রিটের স্থাপত্যের মাঝেও মন্দির চত্বরের সবুজ পরিবেশ এনে দেয় এক অন্যরকম প্রশান্তি। সেই প্রাকৃতিক পরিবেশে দুর্গাপুজোর আয়োজনই ‘ঋতুরঙ্গ’-কে অন্য মাত্রা দিয়েছে। দূর শহরে থেকেও বাঙালির মন পড়ে থাকে শিউলি, ঢাকের বাদ্যি, নতুন জামাকাপড় আর পুজোর আড্ডায়। ‘ঋতুরঙ্গ’-এর উদ্যোগ সেই চেনা আবেগকেই নতুন ঠিকানা দিতে চায়।

ADVERTISEMENT