Loading...

মাগুর মাছের বলি থেকে শোল ভাজা ভোগ, রাজ আমলের প্রথা মেনে কোচবিহারে আরাধনা ‘বড় তারা’র

আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজপরম্পরা ও প্রাচীন সংস্কৃতির শহর কোচবিহার। এই শহরের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা ধর্মীয় পরম্পরা, রীতিনীতি ও উৎসব। তেমনই এক ঐতিহাসিক ঐতিহ্য হল মদনমোহন মন্দিরের ‘বড় তারা’ কালীপুজো। রাজশাসনের সময় শুরু হওয়া এই শতাব্দীপ্রাচীন পুজো আজও একই নিষ্ঠা, শ্রদ্ধা ও ভক্তির সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর এই পুজোকে কেন্দ্র করে মন্দিরে ভিড় জমান অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী।

একসময় কোচবিহারের মহারাজা ও রাজপরিবারের পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালিত হত। বর্তমানে সেই ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব সামলাচ্ছে দেবত্র ট্রাস্ট বোর্ড। এই বোর্ডের তত্ত্বাবধানেই মদনমোহন মন্দির চত্বরে অবস্থিত কাঠামিয়া মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় ‘বড় তারা’র আরাধনা।

ADVERTISEMENT

এই পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব হল প্রাচীন বলির প্রথা। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, ছাগল, পায়রা, হাঁস, ভেড়া এবং মাগুর মাছ এই পাঁচ ধরনের বলি দেওয়ার পরম্পরা রয়েছে। আগে মাগুর মাছের পরিবর্তে কচ্ছপ বলি দেওয়ার রীতি প্রচলিত ছিল। পাশাপাশি প্রতিমাকে ভাজা শোল মাছের ভোগ নিবেদনেরও বিশেষ প্রথা রয়েছে।

আরও পড়ুন

জানা গিয়েছে, মহারাজাদের শাসনকালে রাজপ্রাসাদেই এই পুজোর আয়োজন করা হত। পরবর্তীতে ১৮৯০ সালে মদনমোহন মন্দির প্রতিষ্ঠার পর রাজপ্রাসাদ থেকে এই পুজো স্থানান্তরিত করা হয় মন্দিরের কাঠামিয়া মন্দিরে। সেই সময় থেকেই প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কোচবিহারের মানুষ এই ঐতিহাসিক পরম্পরা বহন করে চলেছেন।

পুজোর প্রতিমাতেও রয়েছে একাধিক বিশেষত্ব। প্রায় সাড়ে দশ হাত উচ্চতার দেবী ‘বড় তারা’র প্রতিমার গায়ের রং কালো। সাধারণ কালীপ্রতিমার তুলনায় দেবীর অস্ত্রশস্ত্রেও রয়েছে কিছুটা ভিন্নতা। দেবীর এক হাতে থাকে খড়গ এবং অন্য হাতে মুণ্ডের পরিবর্তে থাকে রক্তপূর্ণ পাত্র। রাজআমলের সময় থেকেই কোচবিহারের একটি চিত্রকর পরিবার বংশপরম্পরায় এই প্রতিমা নির্মাণ করে আসছে। বর্তমানে প্রায় ৩০ বছর ধরে প্রতিমা তৈরি করছেন শিল্পী প্রভাত চিত্রকর।

লক্ষ্মীপুজোর চার দিন পর থেকেই প্রায় ১৫ ফুট উচ্চতার কাঠামিয়া মন্দিরে প্রতিমা নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে যায়। বর্তমানে মন্দিরে পুজোর প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। আগামী ৮ নভেম্বর রাত ৮টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হবে আরাধনা। পুজো উপলক্ষে সম্পন্ন হবে পুষ্পাঞ্জলি, বলি এবং কালীর ভোগ নিবেদনের মতো বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান। সন্ধ্যা থেকেই মন্দির চত্বরে জ্বালানো হবে প্রদীপ। প্রতিমা দর্শন ও পুজো দিতে এদিন বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজকীয় ইতিহাস, প্রাচীন ধর্মীয় রীতিনীতি এবং স্বতন্ত্র প্রতিমাশিল্পের এক অনন্য মেলবন্ধন কোচবিহারের ‘বড় তারা’ কালীপুজো। শতাব্দী প্রাচীন এই ঐতিহ্য আজও কোচবিহারের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।

ADVERTISEMENT