Loading...

অরিজিৎ সিংয়ের মেসেজ শ্রেষ্ঠ উপহার, বারিষের কাছে সাফল্য মিরাকল, দেবীপক্ষে কোন বর চাইলেন?

  • সায়নী মুখার্জি

  • ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:২৩

দুর্গাপুজো প্রতিটা বাঙালির কাছেই আবেগ। গীতিকার বারিষের কাছে পুজো আনন্দের তবে তাঁর কাছে দুর্গাপুজো মানে শিউলি ফুল বা নীল আকাশ নয়, বারিষ বলেন, 'ছাতিমের গন্ধ নাকে এলেই আমার মনে হয় এই তো পুজো এসে গেছে।"

ছোটবেলার পুজোর স্মৃতি বলতেই বারিষের মনে পড়ে নতুন জামার কথা৷ খুব একটা স্বচ্ছল পরিবারে বড় হননি বারিষ৷ তাই সারাবছর নতুন জামার অপেক্ষা থাকত৷ "কাকা, পিসি, বাবা, মামাবাড়ি সব জায়গা থেকে নতুন জামা আসবে। এই জিনিসটা মনে পড়লে এখনও ভাললাগে যে পুজোর সময় অনেক জামাকাপড় হতো যেটা গোটা বছর পেতাম না। মামাবাড়ি থেকে কিছু একটা আসবে, সকলে একসঙ্গে কেনাকাটা করতে যাব এটাই ছিল আনন্দ৷ আর ছোটবেলায় পুজোর আনন্দ পুরোটাই অনুভব করা যায়৷ পাড়ার বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে আড্ডা হইচই সবমিলিয়ে মনে হত সব পেয়েছির দেশ৷ যেখানে ইচ্ছা ঘুরতে যাওয়ার স্বাধীনতা, পড়া থেকে কয়েকদিনের ছুটি পাওয়া সিনেমা দেখা সারাবছর যে সব নিয়ম নিষেধ থাকত, পুজোর চারদিনে এইন্সব নিয়ম আলগা হত৷"

ADVERTISEMENT

এখনও প্যান্ডেল হপিং করেন বারিষ৷ বারিষ বলেন, " আমি ছোটবেলা থেকেই ঠাকুর দেখার বিষয়ে ডেডিকেটেড এবং প্যাশনেটেড। এখনও পুজোর বিষয় খোঁজ রাখি। কোথায় কোন থিম, কোন শিল্পী কী করছেন জানতে ভাললাগে৷ "

আরও পড়ুন

পুজোর গান নিয়ে বাঙালির একটা আলাদা আবেগ রয়েছে। দূর থেকে গান ভেসে এলে মন ভাল হয়ে যায় বারিষের৷ পুজোতে নিজের লেখা গান যখন প্যান্ডেলে বাজতে শুনলেন তখন কেমন লাগল? আজকাল ডট ইন-এর প্রশ্নে বারিষ বলেন, "ছোটবেলায় দেখতাম যে কিশোর কুমারের গান বাজছে, মহম্মদ রফি সাহেবের গান বাজছে, কুমার শানু উদিত নারায়ণের গান বাজছে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের গান বাজছে। ওই গানগুলো জনপ্রিয় বলেই ওই পুজো মণ্ডপে বাজছে। ফলে প্রথম যখন নিজের লেখা গানও কোনো পুজোর মণ্ডপে বাজতে শুনেছি তখন মনে হয়েছে এই গানটিকে মানুষ খুব ভালোবাসছে। একটা অদ্ভুত অনুভূতি হয়েছিল, আমি যেটা লিখেছি সেটি মানুষ গ্রহণ করেছেন।"

যে এত সুন্দর প্রেমের গান লেখেন তাঁর জীবনে প্রেম কেমন? পুজো আর প্রেম কি একাকার? গীতিকার বলেন, পুজোয় বেরিয়ে প্রেম হয়ে গেল এমনটা হয়নি। তবে পুজোর আগে হয়েছে৷ প্রেমের গান লেখার ক্ষেত্রে সিনেমার গল্প চরিত্র বুঝে সেই চরিত্রটার জায়গায় নিজেকে রেখে লেখেন বারিষ৷

রোগা চেহারার মানুষটি কিন্তু আদ্যন্ত ভোজনরসিক৷ দুর্গাপুজোর ভোগ না খেলে পুজোটাই মাটি হয়ে যায় বারিষের৷ সঙ্গে পোলাও মাটন চাই-ই চাই৷ যদিও অঞ্জলি দিতে যান না বারিষ৷ রাত জেগে ঠাকুর দেখে এসে সকালে ঘুমিয়েই কাটান৷

রাস্তায় বেরিয়ে চুপিচুপি মানুষ কোন গান শুনছেন খেয়াল রাখেন বারিষ৷ ক্যাব ড্রাইভার বা চায়ের দোকানে কেউ হয়তো জানেন না বারিষের লেখা গান শুনছেন, বারিষও জানান না দিয়েই ভিতরে ভিতরে আনন্দ অনুভব করেন অন্য কেউ গান শুনে আনন্দ পেলে৷

এখনও প্যান্ডেল হপিং করেন বারিষ৷ খ্যাতির আলো তাঁর জীবনের স্বাভাবিক ছন্দপতন ঘটাতে পারেনি৷ তবুও বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মিস করেন৷ বারিষের কথায়, তখন টাকা ছিল না। হেঁটেই ঠাকুর দেখতাম৷ সেই হেঁটে ঠাকুর দেখাটা মিস করেন বারিষ৷ দেবী দুর্গার কাছে নিজের জন্য চাইলেন দুই বর৷ যেন তাঁর গান মানুষের মনে ধরে আর দুর্গার আশীর্বাদ যেন সবসময় সঙ্গে থাকে বারিষের৷ বারিষের কথায়, "আমার গান যেন মানুষকে মোটিভেট করতে পারে, তাদের জীবনের পথে ফেরাতে পারে, তাদের ভালবাসার পথে ফেরাতে পারে।"

একসময় ফেসবুকে লিখতেন বারিষ৷ সেখান থেকে সিনেমার জন্য গান লেখা৷ বারিষের কাছে এটা মিরাকল, ঈশ্বরের আশীর্বাদ। বারিষ বলেন, "কোভিডের পরেই হঠাৎ একটা মিরাকেল ঘটে। পেপারে দেখি 'এক্স=প্রেম' নামে সৃজিত মুখার্জি একটি নতুন ছবি করছেন। একজন নতুন মিউজিক কম্পোজার তাতে কাজ করছেন, নাম সপ্তক সানাই দাস, তখনো সানাইদাকে আমি চিনতাম না। তো সেটা দেখে আমি খুব খুশি হই। আমি সেদিনকে বিকেলেই কফি হাউস গিয়েছিলাম। সৃজিতদা নতুনদের সুযোগ দিচ্ছেন এই ভাললাগার কথা জানাই এক পরিচিতকে৷ তাঁর বন্ধু ছিল সানাই৷ তাঁর সূত্রেই সানাইদার সঙ্গে যোগাযোগ হল এবং জানলাম একটা গান লেখা হয়নি৷ এভাবেই ভালবাসার মরশুম 'এক্স=প্রেম' ছবির জন্য গান লেখার সুযোগ পেলাম। ঈশ্বরের আশীর্বাদ ছাড়া এ সম্ভব নয়৷"

বারিষ বলেন, "জিয়া তুই ছাড়া গানটি রিলিজের পর আমি অরিজিৎদাকে একটা হোয়াটসঅ্যাপ করেছিলাম, দাদা তুমি এত ভাল গেয়েছ, আমার কথা বা রণজয়দার সুরকে জাস্টিফাই করার জন্য, এত সুন্দর করে প্রেজেন্ট করার জন্য, সেই গানটাকে প্রাণ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।' তখন অরিজিৎদা রিপ্লাই করেছিল, 'তুমিও খুব ভালো কাজ করেছো ভাই, সবাই তোমার কথাও খুব বলছে। বলছে বাংলায় একজন ভাল লিরিসিস্ট এসে গিয়েছে। কিপ রকিং। এটা আমাকে লিখেছিল অরিজিৎদা। এটা আমার জীবনের অন্যতম সেরা কমপ্লিমেন্ট। কারণ ওই লোকটাকে আমি ভগবানের মতো করে মানি। আমি ফলো করার চেষ্টা করি ওনাকে, উনি আমার আইডল। সো এটা আমার কাছে অন্যতম সেরা কমপ্লিমেন্ট দাদার ওই মেসেজটা।"

ADVERTISEMENT